বিকল্প কর্মসংস্থান আউটসোর্সিং

ব্যবহারকারীর দেয়া রেটিং: / 1
খারাপউত্তম 

বাংলাদেশ আইসিটি খাতে দারুণ এগিয়েছে। এ দেশের ৭০ ভাগ প্রজন্মই তারুণ্যনির্ভর। তাই জনসংখ্যা এদেশের জন্য সমস্যা নয়। বরং সম্পদ। তবে সুদক্ষ আর পেশাভিত্তিক দক্ষতা ছাড়া এ সমস্যা জাতীয় সম্পদ হিসেবে কাজে আসবে না। এ জন্য সরকারকে প্রণোদনা প্যাকেজের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এদেশের উৎসাহী তরুণরা ওডেস্কের তালিকায় নিজেদের শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করেছে। ওডেস্ক তাদের জন্য সশরীরে সনদ বয়ে এনেছে। এ সম্মাননায় বাংলাদেশের তরুণদের আরও উৎসাহিত হবে। কাজে উদ্যম আসবে।
এ সময় পুরো বিশ্বেই আউটসোর্সিং নির্ভরতা বাড়ছে। স্থির অফিসের তুলনায় এখন চলমান (ভার্চুয়াল) অফিস পদ্ধতিই জনপ্রিয় হচ্ছে। আর বাংলাদেশে এ কাজের জন্য চমৎকার পরিবেশ আছে। এ খাতে সুনির্দিষ্ট পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন আছে। তরুণ উৎসাহ চায়। আর তা তাদের দিতে পারলেই যেকোনো অর্জনই সহজ হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ গত তিন বছরে আউটসোর্সিংয়ে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে তুলে ধরেছে। বিশ্বের কোনো দেশই এখন আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশকে খাটো করে দেখে না। বরং সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়েছে। বিশ্বব্যাপী আউটসোর্সিংয়ের অর্ধেক বাজারই এখন ওডেস্কের দখলে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ এ কাজের জন্য সবচেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। আর সাফল্যটাও নিঃসন্দেহে ঈর্ষণীয়। বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম আউটসোর্সিংবান্ধব। কিছু সীমাবদ্ধতা আর অদক্ষতা যে একেবারে নেই তা কিন্তু নয়। তবে তা কাটিয়ে ওঠা খুবই সম্ভব।
বাংলাদেশের জন্য অনলাইন অর্থনীতিতে গবেষণা এবং উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে বাংলাদেশ 'সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন' (এসইও) খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। তবে এ সীমাবদ্ধতা অচিরেই কাটিয়ে উঠতে হবে। আউটসোর্সিং চাকরিতে আরও সুদক্ষ জায়গায় বাংলাদেশের তরুণদের প্রবেশ করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের আউটসোর্সিং কন্ট্রাক্টররা ঘণ্টায় ন্যূনতম ১৫ থেকে ২০ ডলার আয় করে। বাংলাদেশে কন্ট্রাক্টররা ঘণ্টায় ন্যূনতম ৫ থেকে ১০ ডলার আয় করছে।
তবে বাংলাদেশে অনলাইন পেমেন্টে জটিলতা আছে। এ প্রসঙ্গে আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ওডেস্কের সহসভাপতি ম্যাট কুপার বলেন, পেপল অ্যান্ড পেপল। এটা সত্যিই বড় ধরনের বাধা। এ নিয়ে ওডেস্ক সরকারের সঙ্গে 'ডায়ালগ ওপেন' করেছে। অচিরেই গ্লোবাল ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশে ওডেস্ক তাদের পেমেন্ট পদ্ধতি চালু করার চেষ্টা করছে। এটি সম্ভব হলে বাংলাদেশে আউটসোর্সিংয়ে তাদের সবচেয়ে বড় বাধাটি অতিক্রম করবে। তখন আরও বেশি তরুণ এ খাতে আগ্রহী হয়ে উঠবে।
ওডেস্কের কাজের জন্য অনেক তরুণ তাদের নিয়মিত পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়ে উঠছে-এ প্রশ্নের সদুত্তরে ম্যাট কুপার বলেন, সবার আগে একাডেমিক পড়াশোনা। কোনোভাবেই নিয়মিত শিক্ষার বাইরে গিয়ে আউটসোর্সিংয়ে মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়।
ওডেস্ক কন্ট্রাক্টর কমিউনিকেশনের মুখপাত্র মনিকা চুয়া জানালেন, শুধু কাজ জানলে আর কাজের খবর রাখলেই আউটসোর্সিংয়ে ভালো করা যায়, তা কিন্তু নয়। আউটসোর্সিং মার্কেটপ্লেসে নিজের দক্ষতা আর যোগ্যতার সঙ্গে কাজের সমন্বয় করাটাও একটি বিশেষ গুণ। বাংলাদেশের উদীয়মান তরুণদের এ অংশে একটা ঘাটতি লক্ষ করা যায়। এখানে তরুণরা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। নিজে থেকে জানার আগ্রহটা অনেকেরই একটু কম। এ জন্য শুধু সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন নিয়েই বেশি কাজ হচ্ছে বাংলাদেশে।
২০১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বর্তমান আউটসোর্সিং বাজারে দ্বিগুণ দখলে নেবে। এ বিশাল বাজার পেতে অনেক আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠানই বাংলাদেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ওডেস্কের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার সাম্প্রতিক বাংলাদেশ সফরে এ আভাসই সুস্পষ্ট হয়েছে।
এ সম্ভাবনাকে শুধু কাগজে-কলমে আর সমীকরণে না নিয়ে বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ জরুরি। সম্ভাবনাময় এ বাজার থেকে বাংলাদেশ বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারবে। এ জন্য সরকারি উৎসাহ আর উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে আউটসোর্সিং পেমেন্ট পদ্ধতি উন্মুক্ত আর সহজ হলে বাংলাদেশ দ্রুতই এ খাতে আরও চমক দেখাবে। এমন প্রত্যাশাই রেখে গেছেন ম্যাট কুপার।
বিশ্বের শীর্ষ আউটসোর্সিং প্রতিষ্ঠান ওডেস্কের সহসভাপতি ম্যাট কুপার। এখন বিশ্বব্যাপী বিকল্প কর্মসংস্থান হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম আউটসোর্সিং। ওডেস্কের তালিকায় বাংলাদেশ বিশ্বের শীর্ষ তিনে অবস্থান করছে।
২০০৯ সালে বাংলাদেশে ওডেস্ক পরিচিতি পায়। মাত্র তিন বছরে ওডেস্কের পুরো কাজের ১২ ভাগ দখলে নিয়েছে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় তরুণ প্রযুক্তিবিদেরা। কিন্তু প্রথম স্তরে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ২ ভাগ। আউটসোর্সিংয়ের বিভিন্ন সম্ভাবনায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন ম্যাট কুপার। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বিবেচনা করছে ওডেস্ক। এ জন্যই সফরে এসেছেন ওডেস্কের দু'জন শীর্ষ যোগাযোগ কর্মকর্তা। এ সফরে কুপারের সঙ্গে এসেছেন ওডেস্কের কন্ট্রাক্টর কমিউনিকেশনের মুখপাত্র মনিকা চুয়া। তিনিও বাংলাদেশের দারুণ সব সম্ভাবনার কথাই বলেছেন।
বাংলাদেশের ৭০ ভাগ জনসংখ্যা তরুণ। বিশ্বের খুব কম দেশেরই এ শক্তি আছে। একে 'যুব শক্তি' বলে অভিহিত করেন আউটসোর্সিং বিশ্বের স্বনামধন্য কুপার। এর আগেও গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ই-এশিয়া সফরে এসে লাখ লাখ তরুণকে মাতিয়ে গেছেন। করেছেন আউটসোর্সিংয়ের কাজ। জানিয়েছেন বিকল্প কর্মসংস্থানের কথা। জয় করতে বলেছেন হতাশা আর বেকারত্বকে। হাসি আর সুস্পষ্ট বাক্য তরুণরা সহজেই বুঝতে পারে। এ অর্থে বাকপটু আর মিষ্টভাষী কুপারের মতো ব্যক্তিত্ব বাংলাদেশে খুব কমই এসেছেন।
বাংলাদেশের এ খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার আয় করার সুযোগ আছে। এটি দ্বিগুণ হলেও কোনো অবাক করার মতো ঘটনা ঘটবে না। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের লাখ লাখ তরুণ-তরুণী ওডেস্কের জন্য কাজ করছে। আর আয়ও করছে তুলনামূলক অনেক ভালো। গড়ে বাংলাদেশে ওডেস্কের প্রতিটি কর্মী ৬ হাজার টাকার মতো মাসিক আয় করছেন। এটি সম্ভাবনার শুরু মাত্র। এ মুহূর্তে অনলাইন চাকরিতে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি কাজ করছে 'সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন' খাতে। এটি সহজেই করা যায় বলে এ বিভাগে তরুণরা আকৃষ্ট হয়।
তবে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ, ট্রেড এন্ট্রি, পিএইচপি কোডিং এবং সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট খাতে আরও বেশি তরুণ আগ্রহী হলে গুণগত এবং দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব। তখন ঘণ্টাভিত্তিক আয় ১০ ডলার থেকে বেড়ে ১০০ ডলার পৌঁছতে পারে। বাংলাদেশের তরুণদের এ ধরনের যোগ্যতা এবং দক্ষতা আছে বলে ম্যাট কুপার জানান। বাংলাদেশের তরুণ সমাজ অনেক বেশি মেধাবী এবং সম্ভাবনাময়। এদের শুধু সঠিক ক্যারিয়ারভিত্তিক দিকনির্দেশনা দিলেই বেকারত্বে বিপরীতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
ওডেস্ক ওয়ার্ল্ড ওয়ার্কর্ যাঙ্কিংয়ে মাত্র তিন বছরে শীর্ষ তিনে উঠে আসা এরই বাস্তব প্রমাণ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আউটসোর্সিংয়ে বাংলাদেশ এখন জব রেন্টারদের কাছে বিশ্বব্যাপী পরিচিত এবং জনপ্রিয়। বাংলাদেশে শাখা অফিস করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না-এ প্রশ্নের জবাবে ম্যাট কুপার বলেন, আমাদের তো অফিস আছে সব খানেই। তবে তা ভার্চুয়াল এবং গ্লোবাল। অফিসহীন কাজকেই তো 'আউটসোর্সিং' বলে। এখানে দেশ কোনো বিষয় নয়। সময়মতো সঠিক কাজ আর দক্ষতাই এখানে মুখ্য বিষয়।
এ সফরে 'কন্ট্রাক্টর অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে' উপলক্ষে বাংলাদেশের শীর্ষ দু'শতাধিক তরুণকে সার্টিফিকেট বিতরণ করেন ওডেস্কের মার্কেটপ্লেস অপারেশন্সের সহসভাপতি ম্যাট কুপার। এ সময় বাংলাদেশ এ মুহূর্তে ওডেস্কের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ কর্মবাজার বলে অভিহিত করেন কুপার। অচিরেই আবারও বাংলাদেশ সফরে আসার দৃঢ় ইচ্ছা ব্যক্ত করেন কুপার। তবে এর মধ্যে অনেকগুলো দেশ ভ্রমণের কথাও জানান ম্যাট কুপার।
লেখক : আইসিটি এডিটর

সর্বশেষ আপডেট ( বুধবার, 18 জুলাই 2012 07:00 )  

মন্তব্য


নিরাপত্তা কোড
রিফ্রেশ

You are here: Home প্রযুক্তি

ব্যানার স্লাইডার