সি# হ্যালো ওয়ার্ল্ড-১

ব্যবহারকারীর দেয়া রেটিং: / 1
খারাপউত্তম 

বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষে কম্পিউটার ছাড়া কোনো কিছু চিন্তাও করা যায় না। কম্পিউটার আবিষ্কার করেছিলেন চার্লস ব্যাবেজ আর এটিকে অর্থবহ করেছিলেন প্রথম প্রোগ্রামার এডাবাইরন। সেই আবিষ্কারের পর থেকে দিনে দিনে আজ পর্যন্ত কম্পিউটার যন্ত্রটি যেমন উন্নত থেকে উন্নততর হয়েছে, সেই সঙ্গে সফটওয়্যারও উন্নত এবং আধুনিক হয়েছে। আধুনিকতার ধারাবাহিকতায় কম্পিউটার যন্ত্রটি বা হার্ডওয়্যার অংশটির কারিগটি ব্যাপার রয়ে গেছে বিশ্বের অল্প কিছু কোম্পানির কাছে, যেমন- ইন্টেল, অ্যাপল, এএমডি ইত্যাদি। অপরদিকে সফটওয়্যারটি কিন্তু নির্দিষ্ট কারও কাছে সীমাবদ্ধ নেই। অপারেটিং সিস্টেমগুলো সাধারণত বড় কিছু কোম্পানিই প্রোভাইড করে থাকে। এর কারণ, অপারেটিং সিস্টেম অনেক বড় এবং ব্যাপক একটি ব্যাপার। তার মধ্যেও কিছু ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম পাওয়া যায়, যেটিকে যেকোনো প্রোগ্রামার নিজের মতো করে কাস্টমাইজ করে নিতে পারে। তার জন্য দরকার পড়বে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ সম্পর্কিত জ্ঞান। প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে আমাদের এই প্রতিবেদন।
প্রোগ্রামিংয়ের শুরু থেকে এই পর্যন্ত প্রচুর প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ এসেছে, তার ভেতরে জনপ্রিয় কিছু প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ হচ্ছে সি++, সি#, ভিজুয়্যাল বেসিক, জাভা ইত্যাদি। জনপ্রিয় হওয়ার কারণ এসব প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ অনেক ইউজার ফ্রেন্ডলি এবং এগুলো নিয়ে কাজ করতে ইঞ্জিনিয়ার হতে হয় না। কম্পিউটার সম্পর্কে ধারণা আছে এরকম যেকেউ টিউটরিয়াল দেখে দেখেই কাজ করতে পারবেন। তবে দক্ষ প্রোগ্রামার হতে হলে প্রোগ্রামিং অ্যালগরিদম রিলেটেড ভালো বইয়ের সাহায্য নিতে হবে এবং প্রচুর প্র্যাকটিস করতে হবে।
এই সংখ্যায় আমরা সি# প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে কাজ করব। এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের সঙ্গে সি++ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের প্রচুর মিল আছে। তার কারণ সি# হচ্ছে সি++ এর মতোই, কিন্তু আরেকটু উঁচু লেভেলের প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ। সি#-এর ভেতরে প্রচুর পরিমাণে ফাংশন দেয়া আছে। ফলে প্রোগ্রামারদের জন্য কোডিং করা অনেক সহজ হয়ে গেছে।
প্রোগ্রামিং শুরু করার আগে এনভায়রনমেন্টাল সেটআপ সম্পর্কে আমাদের ধারণা থাকতে হবে। শুরুতে আমাদের কম্পিউটারে ভিজ্যুয়াল স্টুডিও ২০০৮ বা ২০১০ ইনস্টল করতে হবে। ভিজ্যুয়াল স্টুডিও হচ্ছে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের প্যাকেজ। এই প্যাকেজের ভেতরে ভিজ্যুয়াল সি++, ভিজ্যুয়াল সি# এবং ভিজ্যুয়াল বেসিক-এই তিনটি ল্যাঙ্গুয়েজ একসাথে থাকে। প্রোজেক্ট তৈরি করার সময় বলে দিতে হয় কোনো ল্যাঙ্গুয়েজে প্রজেক্টটি করা হবে। আবার ভিজ্যুয়াল স্টুডিও ইনস্টল না করে প্রত্যেকটি ল্যাঙ্গুয়েজ আলাদা করে ইনস্টল করা যায়। আপনারা দোকান থেকে সিডি কেনার সময় যেকোনোটি করতে পারেন। আবার ইন্টারনেটে স্পিড ভালো থাকলে মাইক্রোসফটের ওয়েবসাইট থেকে যেকোনো ল্যাঙ্গুয়েজের সফটওয়্যার ডাউনলোড করে নিতে পারেন। এসব প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের সফটওয়্যারগুলো মাইক্রোসফট করপোরেশনের ডেভেলপ করা এবং ফ্রি। এগুলো কিন্তু মাইক্রোসফট ডটনেট ফ্রেমওয়ার্ক ডিপেন্ডেন্ট। কাজেই এই প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে কোনো সফটওয়্যার বানালে তার জন্য কম্পিউটারে ডটনেট ফ্রেমওয়ার্ক এনভায়রনমেন্ট থাকা লাগবে। এই সম্পর্কে আমরা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করব।
সি# প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে আমরা দুই ধরনের অ্যাপ্লিকেশন বানাতে পারব। একটি হচ্ছে কন্সোল অ্যাপ্লিকেশন এবং অপরটি হচ্ছে উইন্ডোজ ফর্মস অ্যাপ্লিকেশন। কন্সোল অ্যাপ্লিকেশন হচ্ছে ডস বেজড অ্যাপ্লিকেশন। উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে এই ধরনের অ্যাপ্লিকেশন সাধারণত কমান্ট প্রম্পটের সাহায্যে চলে। এখনকার বেশিরভাগ

c programming figc programming figসফটওয়্যার উইন্ডোজ ফর্মস অ্যাপ্লিকেশন দিয়ে করা হয়। তার কারণ এর ফলে গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেসটি খুব সুন্দর হয়। আজকে আমরা যেহেতু এনভায়রনমেন্টাল সেটাপ সম্পর্কে ধারণা নেব, তাই আজকের প্রোজেক্টটি হবে এর কন্সোল অ্যাপ্লিকেশনের একটি প্রোজেক্ট।
ধরে নিচ্ছি আপনারা কম্পিউটারে ভিজ্যুয়াল স্টুডিও সফটওয়্যারটি ইনস্টল করে নিয়েছেন। সফটওয়্যার ইনস্টল করা খুব কমন একটি ব্যাপার। তাই সেদিকে না গিয়ে সরাসরি প্রজেক্টে চলে আসি। প্রথমে ভিজ্যুয়াল স্টুডিও ওপেন করতে হবে। তারপর ফাইল মেনু থেকে ঘবি চৎড়লবপঃ সিলেক্ট করতে হবে
চিত্র-১। এখন একটি নতুন ডায়ালগ বক্স ওপেন হবে।

c programming fig-2c programming fig-2

চিত্র-২। এখান থেকে কন্সোল অ্যাপ্লিকেশনটি সিলেক্ট করতে হবে। যখন আমরা উইন্ডোজ ফর্মস অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কাজ করব তখন ওই অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে। তার মানে এখান থেকে বোঝা যাচ্ছে আমরা যখন যে টাইপের অ্যাপ্লিকেশন নিয়েই কাজ করতে চাই না কেনো, তা এখান থেকেই সিলেক্ট করে নিতে হবে। এই ডায়ালগ বক্সের নিচের দিকে সেভ করার অপশন আছে, এখান থেকে সেভ করার লোকেশন দেখিয়ে দিতে হবে, হার্ডডিস্কের কোথায় প্রজেক্টটি সেভ হবে সেটি। এই কাজগুলো শেষ করে ওকে বাটনে প্রেস করলে আমাদের প্রোজেক্ট কোড লেখার জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। এই সময় কোড উইন্ডোতে ডিফল্ট কিছু কোড লেখা থাকবে।

 

images 3 for cimages 3 for cচিত্র-৩। এসব কোডের ভেতরে static void main (string [] args) এই মেথডটির (সি++ এ মেথডকে ফাংশন বলা হয়) ভেতরে আমাদের কোড লেখা শুরু করতে হবে। এই মেথডটির পরে দুটি সেকেন্ড ব্রাকেট আছে '{}'তার ভেতরেই আমাদের কোড থাকতে হবে। ব্রাকেটের বাইরেও আমরা কোড লিখতে পারব, তবে তার জন্য অন্য উপায় অবলম্বন করতে হবে। আমাদের যখন দরকার হবে, ধীরে ধীরে সব ব্যাপারে আলোচনা করব। এবার দেখি কীভাবে কোড লিখতে হয়। আমরা আগেই বলেছি ভিজ্যুয়াল স্টুডিও খুব ইউজার ফ্রেন্ডলি একটি সফটওয়্যার। আমরা যখন কোড লিখব, এটি তখন অটোমেটিক আমাদেরকে বিভিন্ন কিওয়ার্ড দিয়ে সাহায্য করবে। কিছু উদাহরণ দেখা যাক। যেমন- আমরা এই ব্রাকেটের ভেতরে Console.WriteLine (ÒHello C Sharp! Ó); ই কোডটি লিখতে চাই। তার জন্য প্রথমে কোড উইন্ডোর ভেতরে ক্যাপিটাল লেটার "c"

images 4 for cimages 4 for cচত্র-৪-এর মতো একটি পপআপ মেনু আসবে। এই পপআপ মেনুটিতে কিওয়ার্ডের সাজেশন থাকে। এখান থেকে কন্সোল কিওয়ার্ডটি সিলেক্ট করেতে হবে। কন্সোল কিওয়ার্ডটির পর একটি "." (ডট) টাইপ করলে আবার একটি পপআপ মেনু আসবে। সেখান থেকে WriteLine কিওয়ার্ডটি সিলেক্ট করতে হবে।

images 5 for c images 5 for c চিত্র-৫। এই কাজটি করার পরে left round bracket টাইপ করলে আবার একটি সাজেশন বক্স দেখাবে।images - 6 for cimages - 6 for c

চিত্র-৬। আসলে Console.WriteLine () হচ্ছে একটি মেথড। এই সাজেশন বক্সের অ্যারো বাটনে ক্লিক করলে দেখা যাবে Console.WriteLine () মেথডটির ১৯টি ভেরিয়েশন সম্ভব। পরবর্তীতে আমরা সব ধরনের ভেরিয়েশন নিয়েই কাজ করব। আপাতত Console.Wrround bracket -এর ভেতরে দুটি " " দিয়ে তার ভেতরে "Hello C Sharp!0" কথাটি টাইপ করি। একটি ব্যাপার অবশ্যই আমাদের খেয়াল রাখতে হবে, Console.WriteLine ()মেথডটির শেষে একটি ; (সেমিকোলন) টাইপ করতে হবে। এই সেমিকোলন দিয়ে বোঝান হয়েছে মেথডটি এখানে শেষ। শুধু এখানেই নয়, কোডিংয়ের সব লাইন/মেথডের শেষেই সেমিকোলন ব্যবহার করতে হবে। সেমিকোলন দিয়ে কম্পাইলারকে বোঝান হয় যে কাজটি এখানেই শেষ। এমন যদি হয়, কোনো লেখা এক লাইনে শেষ হচ্ছে না তাহলে ওই লাইনে সেমিকোলন না দিয়ে যেখানে শেষ হবে সেই লাইনেই সেমিকোলন দিতে হবে। সোজা কথা, যেখানে সেমিকোলন থাকবে, কম্পাইলার সেখানেই লাইনটির শেষ ধরে নেবে। সেমিকোলন না পেলে কম্পাইলার এটির শেষ খুঁজে পাবে না।
এবার ইঁরষফ মেনু থেকে ইঁরষফ ঝড়ষঁঃরড়হ-কে সিলেক্ট করলে প্রোগ্রামটি কম্পাইল হবে। এই কাজটি করার জন্য কিবোর্ডের শর্টকাট বাটন হচ্ছে ঋ৫ বাটন। কম্পাইল হয়ে গেলে প্রোগ্রামটির আউটপুট হবে
চিত্র-৭-এর মতো। প্রথম লাইনে আমরা ঈড়হংড়ষব.ডৎরঃবখরহব() মেথডটির ভেতরে যা টাইপ করেছি তা দেখাবে আর পরের লাইনে চৎবংং ধহু শবু :ড় পড়হঃরহঁবৃ লেখাটি দেখাবে। এখন কিবোর্ডের যেকোনো একটি বাটন প্রেস করলেই প্রোগ্রামটি শেষ হয়ে যাবে। প্রোগ্রামটিকে যেহেতু আর কোনো কাজ করতে বলা হয়নি, তাই আউটপুট উইন্ডোটি এরপর বন্ধ হয়ে যাবে। আজকের এই প্রোগ্রামটি এক লাইনের খুব ছোট একটি প্রোগ্রাম। এটি করার উদ্দেশ্য হচ্ছে কোডিং কীভাবে শুরু করতে হবে তার সঙ্গে পরিচিত হওয়া। আজকের এই কাজটি পরবর্তীতে প্রতিটি প্রোগ্রাম লেখার সময় অনুসরণ করতে হবে।
আশা করি প্রোগ্রামিং টিউটরিয়ালের শুরুটি আপনাদের কাছে ভালো লেগেছে। ধীরে ধীরে আমরা আরও ভালো ভালো প্রোগ্রামিং প্রজেক্ট প্রকাশ করতে থাকব। প্রজেক্টগুলো যথাসম্ভব

this is images for cthis is images for c

 

 

 

সহজ করে প্রকাশ করার চেষ্টা করা হবে। ততদিনে আপনারা এই প্রজেক্টটি ভালোভাবে প্র্যাকটিস করুন।

লেখক : ফিল্যান্সার

ফিডব্যাক : এই ইমেইল ঠিকানা স্পামবট থেকে রক্ষা করা হচ্ছে।এটি দেখতে হলে আপনাকে JavaScript সক্রিয় করতে হবে।

সর্বশেষ আপডেট ( বুধবার, 04 জুলাই 2012 07:13 )  

মন্তব্যসমূহ

 
0 #1 raton 27-06-2012 07:31
Its very help full ,I need more tutorial on C,C++
 

Comments are now closed for this entry

You are here: Home টিউটোরিয়াল

ব্যানার স্লাইডার