ইন্টারনেটে সন্তান কতটা নিরাপদ

ব্যবহারকারীর দেয়া রেটিং: / 4
খারাপউত্তম 

আজকাল আমরা সবাই দৈনন্দিন কাজের জন্য ইন্টারনেটের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। প্রতিদিন শিক্ষা, বিনোদন, যোগাযোগসহ প্রায় সবক্ষেত্রেই আমরা ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। শুধু বড়রাই নয়, ছোটরাও আজকাল স্কুলের অনেক অ্যাসাইনমেন্ট করার জন্য ইন্টারনেটের ওপর নির্ভর করে। এছাড়া তাদের বিনোদনের একটা বড় জায়গা জুড়ে আছে কম্পিউটার গেমস, যোগাযোগের জন্য ফেসবুক। ইন্টারনেট যেমন আমাদের সামনে এক অবারিত জ্ঞানের দরাজা খুলে দিয়েছে, তেমনি এই খোলা দরজা দিয়ে কিন্তু অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়ও আমাদের মাঝে প্রবেশ করছে। তাই সচেতনতার প্রয়োজন রয়েছে। যেহেতু ছোট বয়সে ভালো-মন্দ বোঝার ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম থাকে, তাই বাবা-মা হিসেবে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে আপনার সন্তান ইন্টারনেটে কতটুকু নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য। বিশেষজ্ঞরা এর নাম দিয়েছেন 'অনলাইন প্যারেন্টিং' যেখানে 'বাস্তব জীবনের' প্যারেন্টিংয়ের মতোই আপনি সবসময়ই চাইবেন আপনার সন্তান কিছু নিয়মকানুন মেনে চলুক ও তার স্বাভাবিক বিকাশ হোক।
যেমন ধরা যাক, বাস্তব জীবনে আপনি জানতে চান আপনার সন্তান কখন কার সঙ্গে দেখা করছে, কাদের সঙ্গে মিশছে, কোথায় কোথায় যাচ্ছে। আপনি চান আপনার সন্তান যেনো কোনো কিছুতে আসক্ত হয়ে না পড়ে। যদি সন্তান আপনার কথা না শুনে তবে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, তাকে শাসন করেন। তার চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করেন। অনলাইন প্যারেন্টিংয়ে বিষয়গুলো প্রায় একই রকম থাকে। আপনি নিশ্চিত করতে চান আপনার সন্তান তার বয়স অনুযায়ী সামঞ্জস্যপূর্ণ ওয়েবসাইটগুলোই শুধু অ্যাক্সেস করুক, কোনো অযাচিত বা অ্যাডাল্ট সাইট সে ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃতভাবে অ্যাক্সেস না করুক। আপনি চান আপনার সন্তান যাতে ইন্টারনেটের প্রতি আসক্ত হয়ে না পড়ে। অনলাইন প্যারেন্টিংয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা যেতে পারে।
সন্তানের সঙ্গে ইন্টারনেটের ভালো ও খারাপ দিক সম্পর্কে আলোচনা করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার সন্তানকে জানানো যে মিডিয়ামটি সে ব্যবহার করছে তা কতটুকু উপকারী বা কতটুকু ক্ষতিকর। কীভাবে এটা তার জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাকে ইন্টারনেটের প্রাথমিক নিরাপত্তা অভ্যাসগুলো সম্পর্কে জানাতে হবে। তাকে শেখাতে হবে কীভাবে ইন্টারনেট থেকে সহজে প্রয়োজনীয় সাইট বা তথ্য খুঁজে বের করতে হয়। তা ছাড়া আপনাকে এটা নিশ্চিত করতে হবে, সে যখনই কোনো সমস্যায় পড়বে সে যাতে আপনার কাছে নির্দ্বিধায় তা বলতে পারে। তাই সন্তানের সঙ্গে যতটা সম্ভব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করুন।
গাইডলাইন তৈরি : আপনার সন্তান কখন ও কতক্ষণ ইন্টারনেট বা কম্পিউটার ব্যবহার করবে সেটি সন্তানের মতামত নিয়ে আপনি ঠিক করে দেন। তাদেরকে বলুন তারা অনলাইনে কি কি করতে পারবে এবং কি কি করা উচিত নয়। তাদেরকে ফেসবুক, চ্যাটরুম, অনলাইন গেমস ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা দিন।

internet imagesinternet images

এর সুফল ও কুফল নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করুন। আজকাল ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা করার চেয়ে কম্পিউটারে বা ইন্টারনেটে টাইম পাস করতে বেশি প্রেফার করে। সেক্ষেত্রে তাদেরকে বোঝাতে হবে শারীরিক পরিশ্রম যেমন-খেলাধুলা করাটাও কতটা প্রয়োজনীয়।
আপনার সন্তান যেনো আপনাদের (আপনি+আপনার সন্তান) বানানো গাইড ঠিকমতো পালন করে সে জন্য প্রয়োজন হলে কিছুটা কঠোরতা অবলম্বন করুন। যেমন-সে যদি আপনাদের (আপনি+আপনার সন্তান) বানানো নিয়মকানুন অমান্য করে তবে কিছু শাস্তির (৭ দিনের জন্য অফলাইন) ব্যবস্থা রাখতে পারেন।
নিয়মগুলোর বাস্তবায়ন : এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনার সন্তান ঠিকমতো আপনাদের বানানো নিয়মগুলো মানছে কি না তা খেয়াল রাখা।
খোলামেলা জায়গায় কম্পিউটার রাখা : আপনার সন্তান যে কম্পিউটারটি ব্যবহার করে তা যতদূর সম্ভব খোলামেলা জাগায় রাখুন যাতে আপনি ইচ্ছা করলে তার অ্যাকটিভিটিসগুলো দেখতে পারেন। তবে তারও ন্যূনতম ব্যক্তিগত বিষয় আছে সেটা সম্মান করুন।
পড়াশোনা করুন বা অন্যের কাছ থেকে জেনে নিন : আপনার সন্তানকে তার অনলাইন অ্যাকটিভিটিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে যদি এমন কিছু বলে যা আপনি বুঝতে পারছেন না তবে সে সম্পর্কে জেনে নিন। ইন্টারনেটে নিশ্চয় এ বিষয়ে অনেক তথ্য পাবেন।
সন্তানের সঙ্গে অংশ নিন : আপনি যেমন আপনার সন্তানের সঙ্গে ফুটবল খেলেন, দাবা খেলেন তেমনি তাদের সঙ্গে কিছু সময়ের জন্য অনলাইন গেমস খেলেন, তাদের অনলাইন অ্যাকটিভিটিতে অংশ নিন। এটা আপনার সন্তানকে আপনার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে সাহায্য করবে।
বিভিন্ন সফটওয়্যার ও কৌশল ব্যবহার করুন : আপনার সন্তান অনলাইনে কি কি করছে, তা দেখা ও আয়ত্ত করার জন্য বিভিন্ন টুল রয়েছে। যেমন-উইন্ডোজে রয়েছে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, ইন্টারনেট ফিল্টার, ব্রাউজার ফর কিডস।
উইন্ডোজ প্যারেন্টাল কন্ট্রোল : আপনি আপনার উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল সিস্টেম নামক সার্ভিসটি ব্যবহার করে আপনার সন্তানের অনলাইন অ্যাকটিভিটি ম্যানেজ করতে পারেন।
এই সার্ভিসের মাধ্যমে আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন আপনার সন্তান কখন ও কতক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারবে, কোন কোন ওয়েবসাইটে যেতে পারবে, কোন কোন গেম খেলতে পারবে, কোন কোন প্রোগ্রাম চালাতে পারবে।

 
You are here: Home ইন্টারনেট

ব্যানার স্লাইডার