উইন্ডোজের আদ্যোপান্ত

ব্যবহারকারীর দেয়া রেটিং: / 1
খারাপউত্তম 

সারা বিশ্বে এখন বহুল প্রচলিত অপারেটিং সিস্টেম হচ্ছে মাইক্রোসফট কর্পোরেশনের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম। ১৯৮৫ সালের ২০ নভেম্বর মাইক্রোসফট উইন্ডোজ নামের অপারেটিং মুভমেন্টের সূচনা করে। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ম্যাক অপারেটিং সিস্টেমকে ছাপিয়ে প্রাধান্য বিস্তার করতে শুরু করে বিশ্বের পিসি মার্কেটে। ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম যাত্রা শুরু করে ১৯৮৪ সালে। উইন্ডোজের সর্বসাম্প্রতিক ক্লায়েন্ট ভার্সন হচ্ছে উইন্ডোজ ৭। আর উইন্ডোজের সর্বসাম্প্রতিক সার্ভার ভার্সন 'উইন্ডোজ সার্ভার ২০০৮ আর ২'। সবচেয়ে সাম্প্রতিক মোবাইল ভার্সন হচ্ছে উইন্ডোজ ফোন ৭.৫। উইন্ডোজ এক্সপির দখলে ৪৮ শতাংশ বাজার। উইন্ডোজের ৭-এর দখলে ৩৪ শতাংশ বাজার।
উইন্ডোজ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেটিং সিস্টেম। এর রয়েছে সুদীর্ঘ এবং ধারাবাহিক ইতিহাস। সেই ইতিহাসের কিছু অংশ এবং আরও কিছু প্রয়োজনীয় ও মজার তথ্য তুলে ধরা হলো আমাদের পাঠকদের উদ্দেশ্যে-
উইন্ডোজ ১.০
এটি ডস তথা ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম রান করত। এতে ছিল টেক্সট এডিটর, নোটবুক, মৌলিক ক্যালেন্ডার ইত্যাদি। এই অপারেটিং সিস্টেমের দরকার ছিল এমএস ডস ভার্সন-২.০, ২৫৬ কিলোবাইট মেমরি ও গ্রাফিক্স অ্যাডাপ্টার। এই অপারেটিং সিস্টেম হার্ডডিস্ক বা দুটি ফ্লপিডিস্ক থেকেও রান করানো যেত।
উইন্ডোজ ২.০
এই নতুন ভার্সনে সম্পৃক্ত করা হয় অ্যাপ্লিকেশন উইন্ডোর ওভারল্যাপিং ক্ষমতা। উন্নত করা হয় নতুন ডায়নামিক ডাটা এক্সচেঞ্জ তথা ডিডিই, যা উইন্ডোজ অ্যাপ্লিকেশনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাটা শেয়ার ও আপডেট সুবিধা দেয়। এই সিস্টেমের জন্য দরকার হয় ৫১২ কিলোবাইট বা তার চেয়ে বেশি মেমরি এবং ডস ভার্সন ৩.০। পরবর্তী ভার্সন ২.১১-এর জন্য দরকার হয় প্রথমবারের মতো হার্ডডিস্কের ব্যবহার।
উইন্ডোজ ২.০ আরেকটি বিশেষ কারণে স্মরণীয়। কেননা ১৯৯৮ সালের ১৭ মার্চ অ্যাপল কম্পিউটার মাইক্রোসফটের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ করে যে, মাইক্রোসফট কপিরাইট আইন ভঙ্গ করে ম্যাকিনটোশ অপারেটিং সিস্টেমের লুক ও ফিল নকল করে। অবশ্য কয়েক বছর আইনি লড়াই করে মাইক্রোসফট বিজয়ী হয় এবং অভিযোগমুক্ত হয়।
উইন্ডোজ ৩.০
এই ভার্সনে আইনকনগুলো নতুন করে ডিজাইন করা হয়েছিল, যাতে ১৬ কালারের ভিজিএ গ্রাফিক্স স্ট্যান্ডার্ড ব্যবহার করা হয়। এর জন্য দরকার হয় ৬৪০ কিলোবাইট, যাকে বলা হয় নরমাল মেমরি এবং ২৫৬ হলো এক্সটেনডেট মেমরি। এটি তৈরি করা হয়েছিল মাল্টিমিডিয়া সাপোর্ট করার জন্য এবং এটি প্রথমবারের মতো সিডি রম সাপোর্ট করে।
বাস্তবে উইন্ডোজ ৩.০-তে অনেক নতুন ফিচার সংযুক্ত করা হয়। যেমন- এতে কম্পিউটারের

opratiing systemopratiing system

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সলিটেয়ার গেম যুক্ত করা। এতে চালু করা হয় ট্রু টাইপ ফন্ট। এর ফলে স্ক্রিনে টেক্সট গড় আরো মসৃণ হয় এবং উন্নতমানের প্রিন্ট পাওয়া যায়। এতে যুক্ত হয় নেটওয়ার্ক সাপোর্ট, যেখানে ব্যবহার করা হয় সময়ের প্রধান নেটওয়ার্ক স্ট্যান্ডার্ড নেটওয়ার্ক।
উইন্ডোজ ৩.১ (এনটি)
এটি সাধারণ ভোক্তাদের প্রতি লক্ষ না রেখে বরং ব্যবসায়কে লক্ষ করে ডিজাইন করা হয়, যা ছিল অধিকতর নিরাপদ ও স্ট্যাবল। এতে ১৬ বিটের পরিবর্তে ৩২ বিট আর্কিটেকচার ব্যবহার করা হয়। ভার্সন ৩.১ প্রথম অবমুক্ত হয় এনটি অপারেটিং সিস্টেমে। এর জন্য দরকার ছিল ৮০৩৮৬ প্রসেসর, ১২ মেগাবাইটর্ যাম এবং হার্ডডিস্ক ফ্রি স্পেস ৯০ মেগাবাইট।
এন্টারপ্রাইজকেন্দ্রিক এই অপারেটিং সিস্টেমে পরে আরও তিনটি উন্নত ভার্সন অবমুক্ত করা হয়।
উইন্ডোজ ৯৫
এটি উইন্ডোজের কনজ্যুমার ভার্সন, যা ১৬ বিট আর্কিটেকচার থেকে সরে এসে ৩২ বিট আর্কিটেকচারের দিকে যাত্রা শুরু করে। অন্যভাবে বলা যায়, এটি হলো ৩২ বিট কোড এবং ১৬ বিট কোডের মিশ্রণ। এতে প্রথম যুক্ত হয় টাস্কবার এবং স্টার্ট মেনু। এ ছাড়া এখানে ফাইল নেমের জন্য ৮ ক্যারেক্টারের পরিবর্তে দীর্ঘ ফাইল নেমের ঘাতটি সম্পৃক্ত করা হয়।
এতে প্রথমবারের মতো ইন্টেলের প্ল্যাগ অ্যান্ড প্লে স্ট্যান্ডার্ড ফিচার যুক্ত করা হয়। এর জন্য দরকার হয় ৮০৩৮৬ ডিএক্স সিপিইউ, ৪ মেগাবাইট সিস্টেমর্ যাম এবং ১২০ মেগাবাইট হার্ডডিস্ক স্পেস।
উইন্ডোজ ৯৫ আরেকটি বিশেষ কারণে উল্লেখযোগ্য। কেননা এর বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য প্রচুর অর্থ খরচ করা হয়। আনুমানিক ৩০ কোটি ডলার খরচ করা হয়। এতে সম্পৃক্ত ছিল উইন্ডোজের থিম সং রোলিং স্টোনের পাওয়া গান 'স্টার্ট মি আপ'।
উইন্ডোজ ৯৮
৯৮-কে উইন্ডোজের ইনক্রিমেন্টাল পরিবর্তন বলা হয়। এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ইন্টারনেটের সাপোর্ট। প্রথমবারের মতো উইন্ডোজ সম্পৃক্ত করা হয় উইনসক স্পেসিফিকেশন, যা উইন্ডোজের জন্য টিসিপি/আইপি সাপোর্ট করে।
এতে প্রথমবারের মতো অপারেটিং সিস্টেমের অংশ হিসেবে যুক্ত করা হয় ইন্টারনেট এক্সপ্লোর। এর জন্য দরকার হয় ৬৬ মেগাহার্টজ ৪৮৬ ডিএক্স২ প্রসেসর ও ১৬ মে.বা.র্ যাম। তবে ২৪ মে.বা. রিকমান্ড করা হয় এবং হার্ডডিস্ক স্পেস ৫০০ মে.বা.।
উইন্ডোজ ২০০০
উইন্ডোজ ২০০০ মূলত উইন্ডোজ এনটি ৪.০-এর উত্তরসূরি। এটি মূলত হোম ইউজারদের উদ্দেশে তৈরি করা হয়নি। এর মাল্টিপল সার্ভার ভার্সনসহ কয়েকটি সংযোজন রয়েছে। তবে এতে ৯৮-এর সব সুবিধাই বিদ্যমান ছিল। এ ছাড়া এই ভার্সনে প্রবর্তন করা হয় উইন্ডোজের ফাইল প্রোটেকশন, যা গুরুত্বপূর্ণ ফাইলকে রক্ষা করে। এর সঙ্গে চালু করা হয় এনক্রিপটিং ফাইল সিস্টেম।
এর জন্য দরকার ন্যূনতম ১৩৩ মেগাহার্টজ পেন্টিয়াম মাইক্রোপ্রসেসর। ৩২ মে.বা.র্ যাম (রিকোয়ারমেন্ট ৬৪ মে.বা.), ২ গি.বা. হার্ডডিস্ক এবং ৬৫০ মে.বা. ফ্রি স্পেস।
উইন্ডোজ মি
উইন্ডোজ মি মানে মিলিনিয়াম এডিশন। ইনস্টলেশনের ঝামেলার কারণে খুব তাড়াতাড়ি সমালোচিত হয়। এটি প্রথম মুভি মেকারকে উপস্থাপন করে। উইন মি হলো সর্বশেষ সংস্করণ, যেখানে ডস আর্কিটেকচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এর স্থায়িত্ব ১ বছর। এর জন্য দরকার ১৫০ মেগাহার্টজ পেন্টিয়াম প্রসেসর বা সমতুল্য, ৩২ মে.বা.র্ যাম এবং ৩২০ মে.বা. ফ্রি হার্ডডিস্ক স্পেস।
উইন্ডোজ এক্সপি
এটি উইন্ডোজের জন্য একটি ব্রেক থ্রু হিসেবে পরিচিত। আগের সব উইন্ডোজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এই অপারেটিং সিস্টেমের আবির্ভাব হয়েছে এবং এক্সপি নামটি এক্সপেরিয়েন্স শব্দ থেকে নেয়া হয়েছে। এটি উইন্ডোজের প্রথম সংস্করণ, যেখানে ডস ব্যবহার হয়নি। এর ইন্টারফেসকে নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়। ফলে তা হয় অধিকতর উজ্জ্বল, অধিকতর রঙিন এবং সমসাময়িক লুক সংবলিত। এতে রিমোর্ট ডেস্কটপসহ নতুন কিছু ফিচার যুক্ত করা হয়।
উইন্ডোজ এক্সপি এখন পর্যন্ত উইন্ডোজের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হওয়া ভার্সন। এর জন্য দরকার হয় পেন্টিয়াম ২৩৩ মেগাহার্টজ প্রসেসর, ন্যূনতম ১২৮ মে.বা.র্ যাম এবং ন্যূনতম ১.৫ গি.বা. হার্ডডিস্কের খালি জায়গা।
উইন্ডোজ ভিস্তা
এটি উইন্ডোজের সবচেয়ে সমালোচিত ও অপছন্দের ভার্সন। ভিস্তার ইন্টারফেস এক্সপির ইন্টারফেস থেকে ভিন্ন এবং আকর্ষণীয়। তারপরও নানা সমস্যার কারণে ভিস্তা বেশিদিন বাজারে টিকে থাকতে পারেনি। ভিস্তা ৬টি ভার্সনে বের হয়েছিল। ভিস্তার জন্য দরকার ন্যূনতম ১ গিগাহার্টজ প্রসেসর, ১ গি.বা.র্ যাম, ১৫ গি.বা. হার্ডডিস্ক ফ্রি স্পেস।
উইন্ডোজ ৭
উইন্ডোজ ৭ ভিস্তার চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল। উইন্ডোজ ৭-এ নতুন ফিচার সংযুক্ত করা হয়। যেমন- এনহ্যান্সড টাস্কবার, সামান্য রিডিজাইন করা স্টার্ট মেনু, আকর্ষণীয় ৩টি শর্টকার্ট যা অ্যারো পিক, অ্যারো স্ন্যাপ এবং অ্যারো শেক হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া উইন্ডো ভিস্তার সব ফিচারই বিদ্যমান রয়েছে। এ ছাড়া উইন্ডোজ ৭-এ রয়েছে লুকানো কিছু থিম, যা ৫টি দেশের দৃশ্যপট নিয়ে গঠিত। যা উইন্ডোজকে আরও সুন্দর লুক প্রদান করে। এই ভার্সনের জন্য দরকার ১ গিগাহার্টজ প্রসেসর, ১ গি.বা. সিস্টেম মেমরি, ১৬ গি.বা. ফ্রি হার্ডডিস্ক স্পেস এবং একটি গ্রাফিক্সকার্ড, যা উইন্ডোজ অ্যারো সাপোর্ট করতে সক্ষম।
উইন্ডোজ ৮
উইন্ডোজ ৮ এখনো বাংলাদেশের বাজারে পুরোপুরি স্থান দখল করতে পারেনি। কারণ এখন পর্যন্ত এর ফুল ভার্সন আসেনি। পরে এ ব্যাপারে আরও আলোচনা হবে।
লেখক : ছাত্র, চট্টগ্রাম কলেজ

opration_fig_2opration_fig_2

সর্বশেষ আপডেট ( সোমবার, 09 জুলাই 2012 05:18 )  

Comments are now closed for this entry

You are here: Home অপারেটিং সিস্টেম

ব্যানার স্লাইডার