কেমন করে শুরু হলো ফেসবুক

ব্যবহারকারীর দেয়া রেটিং: / 1
খারাপউত্তম 

ফেসবুক কী সেটা এখন আর কাউকে নতুন করে বোঝানোর দরকার হয় না। বিশেষ করে যাদের ইন্টারনেট সংযোগ আছে। কারণ, বিশ্বে যত লোকের ইন্টারনেট আছে তার মধ্যে পাঁচজনের একজনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট আছে! যারা সোশ্যাল নেটওয়ার্ক নামের চলচ্চিত্রটি দেখেছেন, তারা অবশ্য এর শুরুর দিকের নানা কথা জানেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরিতে শুরু হওয়া এ কোম্পানি হলো এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বিকাশমান কোম্পানি। ফেসবুক এখন বিশ্বের দুই নম্বর জনপ্রিয় ওয়েবসাইট! ২০১১ সালে এর রেভেনিউ ছিল কয়েক বিলিয়ন ডলার! শুধু তাই নয়, গেল বছর তারা তাদের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাকে বেতন দিয়েছে মাত্র ৩৩১ মিলিয়ন ডলার। কয়েক সপ্তাহ আগে শেয়ারবাজার থেকে ফেসবুক সংগ্রহ করেছে ১৬০ বিলিয়র ডলার!
২০০৬ সালে ফেসবুক সবার জন্য উন্মুক্ত হয়। আমি আমার নিজের অ্যাকাউন্ট তৈরি করি ২০০৭ সালে। পেশাগত এবং নেশাগত কারণে ইন্টারনেটভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে আমার কিছুটা আগ্রহ আছে। এজন্য এ সময়ের তিনটি বড় কোম্পানি সম্পর্কে যখনই সুযোগ পাই তখনই পড়ার চেষ্টা করি। বিল গেটসের বক্তৃতা, খোলা চিঠি এবং দ্য রোড এহেড আমাকে অনেকখানি আপ্লুত করেছে। কোথাও সুযোগ পেলে আমি আইবিএমের সঙ্গে বিলের চুক্তির গল্পটি উল্লেখ করতে ভুলি না। যেমনটি আমি প্রায়ই বলি সিলিকন ভ্যালিতে গড়ে আড়াই হাজার চেষ্টার পর একটি গুগল তৈরি হয়। গুগলের বিকাশমানতা নিয়ে আমার জানার আগ্রহ বেড়ে চলেছে সমানভাবে। এর মধ্যে এখন যুক্ত হয়েছে ফেসবুক।
ভালো করে যদি দেখি তাহলে কয়েকটি ঘটনা আমরা লক্ষ করতে পারি। বিশ শতকের ষাটের দশকে যখন কম্পিউটারের বিকাশ শুরু হয় তখন এটির কেন্দ্র ছিল হার্ডওয়্যারকে ঘিরে। কাজেই সে সময়ের সবচেয়ে বড় কোম্পানির নাম আইবিএম। এদের মনোপলি ঠেকাতে আমেরিকার আইন বিভাগ আইবিএমকে কিছু একটা ছাড়তে বলেছিল। আইবিএম সে সময়ের সবচেয়ে অনুল্লেখ্য অংশ অপারেটিং সিস্টেমটি ছেড়ে দেয় বিলের হাতে। পিসিপ্রতি ১ ডলারে শুরু হয় মাইক্রোসফটের যাত্রা। আশির দশক শেষ হতে না হতে বোঝা গেল কম্পিউটারের সবকিছু আবর্তিত হবে সফটওয়্যারকে ঘিরে। কাজেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী লোকটির ফোর্ডের মতো কোনো গাড়ি বা আইবিএমের মতো কোনো ফ্যাক্টরি নেই। আছে হাজার হাজার মানুষের জ্ঞানের ব্যবহারে গড়ে ওঠা পরিবার। তারা এমন জিনিস বানায় যেটা ধরা যায় না।
ইন্টারনেট আর ওয়েব নিয়ে এল নতুন গ্রোথ। সে সময় অনেকে বলতেন এক সময় সবার একটি হোম পেজ থাকবে। কিন্তু কীভাবে থাকবে তা বোঝা যায়নি। যত মানুষ ইন্টারনেটে ঝুঁকতে শুরু করল, তত দেখা গেল খোঁজাখুঁজির মাত্রা বাড়ছে। কাজেই হাজির হলো গুগল।
গুগলের ব্যবসা কীভাবে হয়? দীর্ঘদিন আমি এটা ভাবতাম। পরে বুঝলাম ব্যবসার ব্যাপারটাই গুগলে নেই! কী আছে? সেবা। মানে গুগল আবর্তিত হয় সেবাকে কেন্দ্র করে। গুগল সেবা দিতে চেয়েছে আর ব্যবসা তার পিছু পিছু হাজির হয়েছে। গুগলের নানা বিষয় বোঝার জন্য এখন অনেক বইপত্র পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালোটি সম্ভবত জার্ভিসের হোয়াট উড গুগল ডু?
হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, সেবা-তারপর কী? মানুষ, জনগণ। হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, হিউমানওয়্যার-তিন মিললে হয় বিজয়, মানুষই আসল তবু, নইলে পুরো অপচয়। তা সে মানুষকে কেন্দ্র করে কী কিছু হবে না?
একুশ শতকে তাই মুখ্য হয়ে ওঠার কথা মানুষেরই। আমাজন ডটকমে আমরা তার একটা নমুনা দেখে ফেলেছি। আমাজন কেনো সফল? কারণ আমাজনের কোনো সেলস পারসন নেই! আমরা সবাই তার সেলস পারসন। মুক্ত দর্শনের এক বিরাট সাফল্য হলো আমাজন। সব ক্রেতাই তার বিক্রেতা। তবে আমাজনের কথা কী জুকারবার্গের মনে ছিল? আমি জানি না।
খালি জানি জুকারবার্গ এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়তে চেয়েছেন যা কি না জনগণকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রাখবে, প্রত্যেক মানুষ, তার সঙ্গে অন্য মানুষের সম্পর্ক, সেগুলোর বিকাশই হবে মুখ্য। 'আমি শুধু আমার কাজটা করতে চাই'-ডেভিড কার্কপ্যাট্রিকের কাছে এটা হলো তার সরল স্বীকারোক্তি। আর এ কথা বলেছেন ডেভিডের সঙ্গে প্রথম যেদিন তার দেখা হয় সেদিন। সেটি ২০০৬ সালের কথা। তখন থেকে ডেভিড (একটি বড় পত্রিকার টেক-কলাম লিখিয়ে) ফেসবুক আর তার কো-ফাউন্ডারকে দেখছে। দেখেছে, কারণ একটি বই লিখতে হবে। ডেভিডরা কোনো কাজ তাড়াহুড়া করে করেন না। করেন এমনভাবে, যাতে সবকিছু ঠিকমতো হয়। কাজে তার 'দ্য ফেসবুক ইফেক্ট' প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। ২০১১ সালে সেটির একটি হালনাগাদ ভার্সন প্রকাশিত হয়েছে।
ডেভিড বইটি শুরু করেছেন ২০০৮ সালে কলম্বিয়াতে হয়ে যাওয়া একটি ঘটনা দিয়ে। কলম্বিয়াতে একটি হাড়ে হাড়ে শয়তান তথাকথিত বিপ্লবী বাহিনী আছে। নাম ফার্ক। এদের কাজ হলো বিভিন্ন লোককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা। থাকে জঙ্গলে। কাউকে কাউকে আটকে রাখে ৬-১০ বছর! কোনো কোনো মায়ের সেখানেই সন্তান হয়। সেই সন্তানকে ঠিকমতো দেখভাল করতে না পারলে তারা সে শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে ছাড়িয়ে কোথাও ফেলে দিয়ে আসে। ইমানুয়েল নামে চার বছর বয়সী একটিহার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, সেবা-তারপর কী? মানুষ, জনগণ। হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, হিউমানওয়্যার-তিন মিললে হয় বিজয়, মানুষই আসল তবু, নইলে পুরো অপচয়। তা সে মানুষকে কেন্দ্র করে কী কিছু হবে না?
একুশ শতকে তাই মুখ্য হয়ে ওঠার কথা মানুষেরই। আমাজন ডটকমে আমরা তার একটা নমুনা দেখে ফেলেছি। আমাজন কেনো সফল? কারণ আমাজনের কোনো সেলস পারসন নেই! আমরা সবাই তার সেলস পারসন। মুক্ত দর্শনের এক বিরাট সাফল্য হলো আমাজন। সব ক্রেতাই তার বিক্রেতা। তবে আমাজনের কথা কী জুকারবার্গের মনে ছিল? আমি জানি না।
খালি জানি জুকারবার্গ এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়তে চেয়েছেন যা কি না জনগণকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রাখবে, প্রত্যেক মানুষ, তার সঙ্গে অন্য মানুষের সম্পর্ক, সেগুলোর বিকাশই হবে মুখ্য। 'আমি শুধু আমার কাজটা করতে চাই'-ডেভিড কার্কপ্যাট্রিকের কাছে এটা হলো তার সরল স্বীকারোক্তি। আর এ কথা বলেছেন ডেভিডের সঙ্গে প্রথম যেদিন তার দেখা হয় সেদিন। সেটি ২০০৬ সালের কথা। তখন থেকে ডেভিড (একটি বড় পত্রিকার টেক-কলাম লিখিয়ে) ফেসবুক আর তার কো-ফাউন্ডারকে দেখছে। দেখেছে, কারণ একটি বই লিখতে হবে। ডেভিডরা কোনো কাজ তাড়াহুড়া করে করেন না। করেন এমনভাবে, যাতে সবকিছু ঠিকমতো হয়। কাজে তার 'দ্য ফেসবুক ইফেক্ট' প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। ২০১১ সালে সেটির একটি হালনাগাদ ভার্সন প্রকাশিত হয়েছে।
ডেভিড বইটি শুরু করেছেন ২০০৮ সালে কলম্বিয়াতে হয়ে যাওয়া একটি ঘটনা দিয়ে। কলম্বিয়াতে একটি হাড়ে হাড়ে শয়তান তথাকথিত বিপ্লবী বাহিনী আছে। নাম ফার্ক। এদের কাজ হলো বিভিন্ন লোককে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা। থাকে জঙ্গলে। কাউকে কাউকে আটকে রাখে ৬-১০ বছর! কোনো কোনো মায়ের সেখানেই সন্তান হয়। সেই সন্তানকে ঠিকমতো দেখভাল করতে না পারলে তারা সে শিশুটিকে মায়ের কাছ থেকে ছাড়িয়ে কোথাও ফেলে দিয়ে আসে। ইমানুয়েল নামে চার বছর বয়সী একটি মেয়ের মুক্তির জন্য ২০০৭ সালে কলম্বিয়াতে অনেকে চেষ্টা করে। ফার্ক সেটা নিয়ে নেগোশিয়েটও করে এবং দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে যে তারা তাকে ২০০৭ সালের ক্রিসমাসের আগেই ছেড়ে দেবে। কিন্তু ক্রিসমাসের পর জানা যায় ইমানুয়েল আসলে তাদের কাছে নেই সেও এক বছর। ওরা ইমানুয়েলকে এক জায়গায় পরিত্যক্ত করেছে। এবং শেষমেশ সে সরকারি ব্যবস্থাপনার হাতে পড়েছে। ফার্কের কাছে পুরো কলম্বিয়া প্রায় জিম্মি। সরকারও সুবিধা করতে পারে না।
ইমানুয়েলকে নিয়ে ফার্কের এই ফাজলামি যাদেরকে বিরক্তির শেষ পর্যায়ে নিয়ে যায় তাদের মধ্যে একজন তরুণ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার অস্কার মোরালেস। ৪ জানুয়ারি নিজের ঘৃণা বিরক্তি প্রকাশের জন্য একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলেন। ফার্কের বিরুদ্ধে এক মিলিয়ন কণ্ঠ! পরেরটুকু ইতিহাস। কলম্বিয়াতে জনগণের সংযুক্তিতে বড় ভূমিকা রেখেছে ফেসবুক।
জুকারবার্গ আসলে আমাজন ডটকম নিয়ে ভাবেনই না। ওর চেষ্টা ছিল এমন একটা কিছু করা যা সামাজিক সম্পর্কগুলোকে জোরদার করবে। ফেসবুকের আগেও এমন সাইট ছিল। তবে সেগুলো বেশিরভাগই ডেটিং সাইট। ফেসবুকের বয়স যখন চার মাস, তখন এক ভদ্রলোক মাত্র ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। জুকারবার্গের তখন বয়স ২০। একটুও না ভেবে তিনি রাজি হয়েছেন।
২০০৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মার্ক জুকারবার্গ হার্ভার্ডের কার্কল্যান্ড হাউসের বাসিন্দা হতে আসে। এইচ৩৩ রুমটি ভবনের চারতলায়। মার্কের সঙ্গে ছিল একটি আট ফুট দৈর্ঘ্যের হোয়াইট বোর্ড। যে কোনো চিন্তাভাবনা করার সময় এ বোর্ডটি তার সহায়! তার বিক্ষিপ্ত চিন্তা এই বোর্ডকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীভূত হয়।
হাউসের স্যুটটি একটু জটিল। দরজা পেরুলে একটি কমন রুম। চারটি পড়ালেখার ডেস্ক রয়েছে সেখানে। কমনরুম পার হয়ে দুটি বেডরুমে যাওয়া যায়। সেখানে যাওয়ার পথে মাত্র একটি দেয়ালই খালি। সেখানে সানন্দে বসে গেল হোয়াইট বোর্ডটি।
শোবার রুম দুটি একই রকম। একটি দোতলা খাট। দুটি ডেস্ক আর ক্যাবিনেট। এর একটিতে মার্কের সঙ্গে থাকবে হিউজেস। সাহিত্য আর ইতিহাসে মেজর। দু'জনের কেউ রাজি হলেন না ওপরে থাকতে। কাজেই খাট খুলে রুমের মধ্যে পেতে ফেলা হলো। ফলাফল হলো এ রুমে আর নড়াচড়া করার কোনো জায়গাই থাকল না। পাশের রুমে ডাসটিন মস্কোভিচ, অর্থনীতির ছাত্র আর বিলি ওলসন। চারের মধ্যে মার্কই শুধু কম্পিউটারে মেজর। সারা দিন ধরে খালি কোড করার চিন্তা। আর নানা প্রজেক্ট ও ইন্টারনেট। মার্কের ধ্যানজ্ঞান হলো ইন্টারনেট। বাকিদের মধ্যে কম্পিউটার নিয়ে কিছুটা আগ্রহ আছে মস্কোভিচের।
মার্কের সাইক্রিয়াটিস্ট মায়ের মতে, মার্কের প্রচণ্ড অগোছালো হওয়ার কারণ হলো ছোটবেলা থেকে তার ন্যানি ছিল। ফলে নিজে কিছুই করে না। কোক বা বিয়ার খাবার পর ক্যানটি কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় রাখার কথা মার্ক ভাবে না। সে সেটি যেকোনো স্থানে রাখে এবং তারপর সেটির কথা ভুলে যায়। ফলে অল্প কিছুদিনের মধ্যে এইচ৩৩-এর অবস্থা হলো দেখার মতো। মাঝেমধ্যে মস্কোভিচের বান্ধবী প্রচণ্ড রেগে তাদের রুম পরিষ্কার করে দিয়ে যায়!
মাসখানেকের মধ্যে মার্ক তার প্রথম প্রজেক্টে হাত দেন। প্রজেক্টটি খুব সহজ। টপোলজি ক্লাসে আমার পাশে যদি কোনো সুন্দরী মেয়ে বসে, তাহলে আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে পরের সেমিস্টারে সে কোন কোন সাবজেক্ট নেবে। তাহলে আমিও সে কোর্স রেজিস্টার করতে পারি।
মার্কের প্রথম প্রজেক্ট, কোর্স ম্যাচ ঠিক এই কাজটা করেছে। কোন শিক্ষার্থী কোন কোর্স রেজিস্টার করেছে যেমন জানা যায়, তেমনি কোন কোর্সে কে কে আছে সেটাও জানা যায়। জানা কথা, প্রজেক্টটি দারুণভাবে সফল হবে। মার্ক তার পরের প্রজেক্টটির প্রেরণা পেয়েছে সম্পূর্ণ অন্য জায়গা থেকে। টি-শার্ট পরা কিছুটা অন্তর্মুখী হলেও মুখের কাছে সবসময় হাসি ধরে রাখা মার্ক কিন্তু মেয়ে মহলে খুবই জনপ্রিয়। কিন্তু সবকাল তো আর এক যায় না?
কাজেই তাকেও কারো না কারো কাছে হারতে হয়। এরকম একবার তার মনে হলো এমন একটা সফটওয়্যার বানাতে হবে যা কি না নির্দিষ্ট কোনো লোককে কোনো জন্তু-জানোয়ারের সঙ্গে তুলনা করে রেটিং দেবে। যার বেশি রেটিং সে পরের ধাপে যাবে আরও হট কারো সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে। বিল প্রথম থেকে বললেন জন্তু-জানোয়ার আমদানির দরকার কি? বরং দু'জন মানুষের মধ্যে প্রতিযোগিতা হোক। সবাইর্ যাঙ্কিং করুক। কিন্তু কলেজের সবার ছবি কোথায় পাওয়া যায়?
মার্কের মনে পড়ল প্রথম দিন অরিয়েন্টেশনের সময় হাউসের ক্যামেরাম্যান সবার ছবি তোলে। সেগুলো রাখা হয় হাউসের ফেসবুকে। মার্ক শুরু করলেন সেগুলোর ডিজিটাল কপি সংগ্রহ। নিজের হাউস তো হলো? বাকিগুলো। হার্ভার্ডের ১২টি হাউসের ৯টির ফেসবুকের সব ফেসের ছবি জোগাড় করা হলো দুটি পদ্ধতিতে-হ্যাকিং আর অন্যদের পাসওয়ার্ড জোগাড় করে।
তো শুরু হলো ফেসমেশ। একটি ওয়েবসাইট, যার হোমপেজে সবাইকে উদ্ভূত করা হলো কে হট সেটা বের করতে। মার্কের ল্যাপটপে সিস্টেম রেডি হলো ২ নভেম্বর বিকেলে।
'টেস্ট করা আর সাজেশন দেয়ার জন্য' মার্ক তার কয়েকজন বন্ধুকে মেইল করে জানালেন। এই টেস্টাররা তাদের বন্ধুদের জানিয়ে দিল আর সঙ্গে সঙ্গে সেটা হয়ে গেল 'আন্ডারগ্রাউন্ড হিট'। মার্কের রুমের পাশের ঘরের একটি ছেলে প্রথম ঘণ্টার মধ্যে শীর্ষস্থানে চলে এল। কাজেই সে তাড়াতাড়ি তার বন্ধুদের জানালেন। রাত দশটায় মার্ক যখন তার রুমে ফিরে এলেন তখন তো ল্যাপটপের অবস্থা কাহিল। কারণ ব্যাপক হিট হচ্ছে।
সবকিছু ভালো হয় না। মেয়েদের মহলে ব্যাপারটি জানাজানি হতে বেশি দেরি হলো না। দুটি সংগঠন দ্রুত এই সাইটের বিরুদ্ধে বর্ণবিদ্বেষের অভিযোগ উত্থাপন করল। টনক নড়ল কর্তৃপক্ষের। রাত সাড়ে ১০টায় মার্কের ল্যাপটপের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলো নেটওয়ার্ক থেকে। ততক্ষণে ৪৫০ শিক্ষার্থী ২২ হাজার জোড়া ছবির তুলনা করে ফেলেছে! ডিসিপ্লিনারি কমিটিতে যেতে হলো মার্ককে। তবে সে অন্য প্রসঙ্গ।
কিন্তু কোর্সম্যাচ আর ফেসমেশ দিয়ে ততক্ষণে তৈরি হয়ে গেছে ভবিষ্যতের দুনিয়া কাঁপানোর ভিত। আর এখন প্রায় ৯০ কোটি লোক ফেসবুকের ব্যবহারকারী। বলা হয় চীন আর ভারতের পরই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দেশ ফেসবুক। বাংলাদেশেও এর প্রায় সিকি কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে! উদ্যম, ভালোবাসা আর একাগ্রতাই জন্ম দিয়েছে এ সময়ের সবচেয়ে বড় ক্রেজটির।

সর্বশেষ আপডেট ( বুধবার, 18 জুলাই 2012 04:45 )  
You are here: Home ফেইসবুক

ব্যানার স্লাইডার