উইন্ডোজ এইটের আদ্যোপান্ত

ইমেইল প্রিন্ট পিডিএফ

অপারেটিং সিস্টেমের দুনিয়ায় মাইক্রোসফটের পদচারণা শুরু হয় আশির দশকে। এমএস-ডসকে ভিত্তি করে মাইক্রোসফটের যাত্রা শুরু হয়। বিল গেটস ও তার বন্ধু পল অ্যালেনের সমন্বিত চেষ্টায় গড়ে ওঠে মাইক্রোসফট। কম্পিউটার অপারেট সহজ করার লক্ষ্যে মাইক্রোসফট গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস সহযোগে বাজারে প্রথম আনে এমএস-ডস বা মাইক্রোসফট ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম নামের অপারেটিং সিস্টেম। ১৯৮৫ সালের নভেম্বরে আসা এই সিস্টেমটি তখনকার বাজারে চলমান অপারেটিং সিস্টেম ম্যাক ওএসের একক আধিপত্যের বাঁধ ভেঙে দিয়েছিল। মাইক্রোসফটের এই অপারেটিং সিস্টেম সবার সামনে নতুন এক জানালা খুলে কম্পিউটিংয়ের জগতে দৃশ্য অবলোকনে সহায়তা করায় বিল গেটস এই অপারেটিং সিস্টেমের নাম রাখেন উইন্ডোজ। অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে মাইক্রোসফট এসে পৌঁছেছে আজকের অবস্থানে। অপারেটিং সিস্টেমের দুনিয়ায় আরেকটি মাইলফলক বানাতে যাচ্ছে মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ ভিসতার বিফলতা বেশ কিছুটা কাটাতে সক্ষম হয়েছে উইন্ডোজ সেভেন। কিন্তু তারপরও অনেকের মন ভরেনি উইন্ডোজ সেভেন নিয়ে। যাদের উইন্ডোজ সেভেন নিয়েও কিছুটা অতৃপ্তি ছিল তাদের কথা মাথায় রেখে বানানো হচ্ছে উইন্ডোজ এইট। উইন্ডোজ এইট ডেভেলপার প্রিভিউ, কনজ্যুমার প্রিভিউ ও রিলিজ প্রিভিউ সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ার পর যে সাড়া পাওয়া গেছে তা অভাবনীয়। সহজ কথায় বলতে গেলে ২০১২ সালে সবচেয়ে প্রতীক্ষিত সফটওয়্যারটি হচ্ছে উইন্ডোজ এইট। আজকের প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে উইন্ডোজ এইটের আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়েছে।
উইন্ডোজ এক্সপির পর উইন্ডোজ ভিসতা বাজারে আসার সময় অনেকেই বেশ হতাশ হয়েছিলেন। ভিসতার গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস বেশ এক্সপির তুলনায় নান্দনিক হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ড্রাইভার সাপোর্ট ও সফটওয়্যার ইনস্টলের ঝামেলাসহ আরো নানা কারণে উইন্ডোজ ভিসতা মাইক্রোসফটের অপারেটিং সিস্টেমের জগতে বেশ দুর্বল এক রিলিজ ছিল। পরে অবশ্য ভিসতার দুর্বলতা কাটিয়ে নেয়া হয়েছিল অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর, কিন্তু ভিসতা পুরোপুরি ঠিক হওয়ার আগেই মাইক্রোসফট রিলিজ করেছিল উইন্ডোজ সেভেন, যা ভিসতার ব্যর্থতা অনেকটা ঢেকে দিয়েছে। তরুণ প্রজন্ম উইন্ডোজ সেভেনের দিকে ঝুঁকে পড়তে পেরেছে, কিন্তু এখনো অনেকেই পছন্দ করেন উইন্ডোজ এক্সপি। সারা বিশ্বে যত অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয় তার শতকরা ৪৬ ভাগই হচ্ছে উইন্ডোজ এক্সপি। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে এখনো এক্সপির অনেক কদর রয়েছে। উইন্ডোজ সেভেন বেশ ভালোই সুনাম কুড়াতে পেরেছে। তাই পরবর্তী উইন্ডোজ এইটের রিলিজ করার আগে বেশ কিছুটা সময় নিচ্ছে মাইক্রোসফট। কারণ তারা উইন্ডোজ সেভেন দিয়ে আরো ব্যবসা করে নিতে চায়। উইন্ডোজ এইটের অবমুক্তির তারিখ পেছাতে পেছাতে তা এ বছরের অক্টোবর মাসে এসে থেমেছে। উইন্ডোজ এইট ডেভেলপমেন্টের পাশাপাশি মাইক্রোসফট ডেভেলপ করছে সার্ভারের জন্য উইন্ডোজ সার্ভার ২০১২ অপারেটিং সিস্টেম। এখন অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকতে হবে উইন্ডোজ এইট রিলিজের আশায়।
উইন্ডোজ এইটের আদিকথা
উইন্ডোজ এইট ডেভেলপ করার কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে উইন্ডোজ সেভেন মুক্ত হওয়ার আগে থেকেই। ২০১১ সালে কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শোতে মাইক্রোসফট তুলে ধরেছিল তাদের নতুন অপারেটিং সিস্টেমের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার কথা। সেই শোতে বলা হয়েছিল উইন্ডোজ এইট ইন্টেল, এএমডি ও ভিআইএ কোম্পানির বানানো এক্স৮৬ সিরিজের মাইক্রোপ্রসেসরের পাশাপাশি মোবাইল ডিভাইসের জন্য বিশেষভাবে বানানো এএমআর বা আর্ম মাইক্রোপ্রসেসরের জন্য অবমুক্ত করা হবে। ২০১১ সালের ১ জুনে মাইক্রোসফটের পক্ষে মাইক অ্যাঙ্গুইলো তাইওয়ানের তাইপেতে অনুষ্ঠিত তাইপে কমপিটেক্স ২০১১ মেলাতে এবং আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত ডিনাইন কনফারেন্সে জুলি লারসন-গ্রিন ও মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট স্টিভেন সিনোফস্কাই উইন্ডোজ এইটের নতুন ফিচারগুলো সবার সামনে তুলে ধরেন। উইন্ডোজ এইটের বেটা বা বিল্ড ভার্সন বাজারে ছাড়ার এক মাস আগেই মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এইটের ওপরে একটি ব্লগ তৈরি করে, যার নাম বিল্ডিং উইন্ডোজ এইট। ২০১১ সালের আগস্টের ১৫ তারিখে খোলা এ ব্লগ বানানো হয়েছে ইউজার ও ডেভেলপারদের মতামত প্রকাশের জন্য।
উইন্ডোজ এইটের তথ্য ফাঁস
উইন্ডোজ এইট যখন ডেভেলপ চলছে তখন সবার মনে নানা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। কি থাকতে পারে নতুন উইন্ডোজে, এটি দেখতে কি উইন্ডোজ সেভেনের মতোই হবে নাকি আমূল বদলে ফেলা হবে, বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না, ট্যাবলেট পিসিতে চলবে কি না, পিসি কনফিগারেশন কেমন চাইবে ইত্যাদি আরো নানা ধরনের প্রশ্ন। জনগণের প্রশ্নের জবাবে মাইক্রোসফট কিছু বলতে না চাইলেও তাদের হাঁড়ির খবর ফাঁস করেছে কিছু ডেভেলপ। ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেমের প্রথম বিল্ড ৭৮৫০ বানানোর সময় ২২ সেপ্টেম্বর ২০১০-এ জানা যায় এতে একটি অনলাইন কমিউনিটি থাকবে। পরের বছর এপ্রিলের ১২ তারিখে আরেকটি খবর ফাঁস হয় যাতে জানাযায় উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারের রিবন স্টাইল সম্পর্কে। এভাবে সময়ে সময়ে আরো জানা যায় পিডিএস রিডার মডার্ন রিডার, উন্নত টাস্ক ম্যানেজার যার নাম মডার্ন টাস্ক ম্যানেজার, ন্যাটিভ আইএসও ফাইল মাউন্টিং এবং মাইক্রোসফটের আপডেটেড আইএমই আইকন ইত্যাদির খবর। দ্বিতীয় বিল্ড ৭৯২৭ বানানোর সময় দ্য পাইরেট বে লিক করে উইন্ডোজ এইটের কিছু স্ক্রিনশট। বিল্ড ৭৯৫৫ বানানোর সময় লিক হয় যে উইন্ডোজ এইটে নতুন ধরনের লগিন সিস্টেম ও প্রটোগন বা আরই ফাইল সিস্টেম নামের নতুন ফাইল বিন্যাস ব্যবস্থা থাকবে। কড়া সিকিউরিটির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও বিল্ড ৭৯৭১ বানানোর সময় আবার ফাঁস হয় যে উইন্ডোজ এইটের থিমে বিরাট পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম বানানোর সময় মাই ডিজিটাল লাইফ নামের ফোরামে ২০১১ সালের জুনের ১৮ তারিখে ফাঁস হয় অনেক খবর, যার মধ্যে রয়েছে- এসএমএস ফিচার, নতুন ভার্চুয়াল কিবোর্ড, নতুন বুটস্ক্রিন, ট্রান্সপারেন্ট থিম, জিও-লোকেশন সার্ভিস, হাইপার-ভি ৩.০, পাওয়ারশেল ৩.০ ইত্যাদি।
উইন্ডোজ এইট প্রিভিউ
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের প্রতিটি নতুন ভার্সনে কিছু না কিছু নতুন ফিচার থাকে। নতুন ফিচার যদি না-ই থাকে তবে আর নতুন ভার্সন কেউ কিনবে কেন? উইন্ডোজ এইটে কিছু নতুন ফিচার নয়, অনেক নতুন ফিচার যোগ করা হয়েছে। নতুন ফিচারগুলোর নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়তে পারেন। এক্সপি ইউজারদের যদি উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করতে দেয়া হয় তবে সেটা তার কাছে কুয়ো থেকে পুকুরে এসে পড়ার মতো অবস্থা হবে। আর যদি এক্সপি ব্যবহারকারীকে উইন্ডোজ এইট ব্যবহার করতে দেয়া হয় তবে সে কুয়ো থেকে সমুদ্রে এসে পড়েছে বলে মনে করতে পারেন। মাইক্রোসফট তাদের অরিজিনাল উইন্ডোজ এইট অবমুক্ত করার আগে এ নিয়ে তিনটি প্রিভিউ বাজারে ছাড়লো। এগুলো হচ্ছে-ডেভেলপার প্রিভিউ, কনজিউমার প্রিভিউ ও রিলিজ প্রিভিউ। প্রিভিউ-গুলোতে উইন্ডোজ এইটের নতুন ফিচারগুলো সংযুক্ত করা হয়েছে। নতুন স্টাইল ও অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহারকারীদের মধ্যে কেমন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে তা জানার জন্য এ প্রিভিউগুলো মুক্ত করা হয়েছে। ব্যবহারকারীর মতামত ছাড়াও আরো বিরাট একটি লক্ষ্য নিয়ে এ প্রিভিউগুলো বের করা হয়েছে যা হচ্ছে ডেভেলপারদের উইন্ডোজ এইট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা। চলুন সংক্ষেপে দেখে নেয়া যাক উইন্ডোজ এইটের প্রিভিউগুলোর কোনটিতে কি ছিলো।
ডেভেলপার প্রিভিউ
উইন্ডোজ এইটের এক ঝলক দেখানোর জন্য ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরে মাইক্রোসফট তাদের সাইট থেকে উইন্ডোজ এইটের একটি বেটা ভার্সন বিল্ড ৮১০২ ডাউনলোড করার সুযোগ দেয়, যার নাম ছিল ডেভেলপার প্রিভিউ। ডেভেলপার প্রিভিউ অনলাইনে আসার ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি ৫ লাখেরও বেশিবার ডাউনলোড হয়। এই রিলিজের মূল লক্ষ্য ছিল ডেভেলপারদের মেট্রো স্টাইলের অ্যাপ্লিকেশন বানানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করা। ডেভেলপারদের জন্য ডেভেলপার প্রিভিউতে কিছু টুলস ছিল যার মধ্যে রয়েছে-মেট্রো স্টাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্য মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এসডিকে, মাইক্রোসফট ভিজ্যয়াল স্টুডিও ১১ এক্সপ্রেস ও মাইক্রোসফট এক্সপ্রেশন ব্লেন্ড ৫। এই প্রিভিউতে সবাই প্রথম দেখতে পায় উইন্ডোজের স্টার্ট মেনুর বদলে আসা স্টার্ট স্ক্রিন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডেভেলপার প্রিভিউয়ের মেয়াদকাল ১১ মার্চ ২০১২ থেকে আরো বাড়িয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ করা হয় যাতে ডেভেলপারদের সুবিধা হয়।
কনজিউমার প্রিভিউ
এ বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এইটের বেটা ভার্সন বিল্ড ৮২৫০ অবমুক্ত করে কনজিউমার প্রিভিউ নামে। উইন্ডোজ ৯৫-এর পর এই প্রথম সরিয়ে ফেলা হয় স্টার্ট বাটন। এ ভার্সনে স্ক্রিনের নিচের দিকে বাম কোনায় মাউস নিয়ে গেলে স্টার্ট স্ক্রিন আসে। নতুন এ পদ্ধতির নাম দেয়া হয়েছে চার্ম। কনজিউমার প্রিভিউ রিলিজের পর এটি ডাউনলোড করা হয়েছে ১ মিলিয়নেরও বেশিবার। উইন্ডোজের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টিভেন সিনোফস্কাইয়ের ভাষ্যমতে, বেটা ভার্সন জনগণের হাতে পৌঁছানোর আগে উইন্ডোজ এইটে প্রায় ১ লাখেরও বেশি বদল করা হয়েছে। ডেভেলপার প্রিভিউয়ের মতো কনজিউমার প্রিভিউয়ের মেয়াদকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
রিলিজ প্রিভিউ
জাপানের এক ডেভেলপার ডে কনফারেন্সে স্টিভেন সিনোফস্কাই ঘোষণা দেন জুনের প্রথমদিকেই অবমুক্ত করা হবে উইন্ডোজ এইটের আরেকটি বেটা ভার্সন বিল্ড ৮৪০০ বা রিলিজ প্রিভিউ। ২৮ মে কিছু চাইনিজ ওয়েবসাইট ও বিটটরেন্টে লিঙ্ক হলো চীনা ভাষার রিলিজ প্রিভিউয়ের ৬৪ বিট ভার্সন। তাই হয়তো জুনের আগেই ৩১ মে মাইক্রোসফট রিলিজ করে দিল নতুন এ বেটা ভার্সন রিলিজ প্রিভিউ। নতুন এ রিলিজে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ১০ ভার্সনে ফ্ল্যাশ প্লাগিনের সাহায্যে মেট্রো স্টাইল যোগ করা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে নতুন কিছু অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্পোর্টস, ট্রাভেল ও নিউজ। আগের ভার্সনগুলোর মতো এটির মেয়াদকালও নির্ধারণ করা হয়েছে একই দিনে।
বিল্ডিং উইন্ডোজ এইট ব্লগ থেকে জানা গেছে, উইন্ডোজ এইটের আরেকটি বেটা ভার্সন বিল্ড ৮৬০০ বা রিলিজ টু ম্যানুফ্যাকচারিং (আরটিএম) ভার্সন জুলাইয়ের শেষের দিকেযায় উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারের রিবন স্টাইল সম্পর্কে। এভাবে সময়ে সময়ে আরো জানা যায় পিডিএস রিডার মডার্ন রিডার, উন্নত টাস্ক ম্যানেজার যার নাম মডার্ন টাস্ক ম্যানেজার, ন্যাটিভ আইএসও ফাইল মাউন্টিং এবং মাইক্রোসফটের আপডেটেড আইএমই আইকন ইত্যাদির খবর। দ্বিতীয় বিল্ড ৭৯২৭ বানানোর সময় দ্য পাইরেট বে লিক করে উইন্ডোজ এইটের কিছু স্ক্রিনশট। বিল্ড ৭৯৫৫ বানানোর সময় লিক হয় যে উইন্ডোজ এইটে নতুন ধরনের লগিন সিস্টেম ও প্রটোগন বা আরই ফাইল সিস্টেম নামের নতুন ফাইল বিন্যাস ব্যবস্থা থাকবে। কড়া সিকিউরিটির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও বিল্ড ৭৯৭১ বানানোর সময় আবার ফাঁস হয় যে উইন্ডোজ এইটের থিমে বিরাট পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম বানানোর সময় মাই ডিজিটাল লাইফ নামের ফোরামে ২০১১ সালের জুনের ১৮ তারিখে ফাঁস হয় অনেক খবর, যার মধ্যে রয়েছে- এসএমএস ফিচার, নতুন ভার্চুয়াল কিবোর্ড, নতুন বুটস্ক্রিন, ট্রান্সপারেন্ট থিম, জিও-লোকেশন সার্ভিস, হাইপার-ভি ৩.০, পাওয়ারশেল ৩.০ ইত্যাদি।
উইন্ডোজ এইট প্রিভিউ
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের প্রতিটি নতুন ভার্সনে কিছু না কিছু নতুন ফিচার থাকে। নতুন ফিচার যদি না-ই থাকে তবে আর নতুন ভার্সন কেউ কিনবে কেন? উইন্ডোজ এইটে কিছু নতুন ফিচার নয়, অনেক নতুন ফিচার যোগ করা হয়েছে। নতুন ফিচারগুলোর নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়তে পারেন। এক্সপি ইউজারদের যদি উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করতে দেয়া হয় তবে সেটা তার কাছে কুয়ো থেকে পুকুরে এসে পড়ার মতো অবস্থা হবে। আর যদি এক্সপি ব্যবহারকারীকে উইন্ডোজ এইট ব্যবহার করতে দেয়া হয় তবে সে কুয়ো থেকে সমুদ্রে এসে পড়েছে বলে মনে করতে পারেন। মাইক্রোসফট তাদের অরিজিনাল উইন্ডোজ এইট অবমুক্ত করার আগে এ নিয়ে তিনটি প্রিভিউ বাজারে ছাড়লো। এগুলো হচ্ছে-ডেভেলপার প্রিভিউ, কনজিউমার প্রিভিউ ও রিলিজ প্রিভিউ। প্রিভিউ-গুলোতে উইন্ডোজ এইটের নতুন ফিচারগুলো সংযুক্ত করা হয়েছে। নতুন স্টাইল ও অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহারকারীদের মধ্যে কেমন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে তা জানার জন্য এ প্রিভিউগুলো মুক্ত করা হয়েছে। ব্যবহারকারীর মতামত ছাড়াও আরো বিরাট একটি লক্ষ্য নিয়ে এ প্রিভিউগুলো বের করা হয়েছে যা হচ্ছে ডেভেলপারদের উইন্ডোজ এইট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা। চলুন সংক্ষেপে দেখে নেয়া যাক উইন্ডোজ এইটের প্রিভিউগুলোর কোনটিতে কি ছিলো।
ডেভেলপার প্রিভিউ
উইন্ডোজ এইটের এক ঝলক দেখানোর জন্য ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরে মাইক্রোসফট তাদের সাইট থেকে উইন্ডোজ এইটের একটি বেটা ভার্সন বিল্ড ৮১০২ ডাউনলোড করার সুযোগ দেয়, যার নাম ছিল ডেভেলপার প্রিভিউ। ডেভেলপার প্রিভিউ অনলাইনে আসার ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি ৫ লাখেরও বেশিবার ডাউনলোড হয়। এই রিলিজের মূল লক্ষ্য ছিল ডেভেলপারদের মেট্রো স্টাইলের অ্যাপ্লিকেশন বানানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করা। ডেভেলপারদের জন্য ডেভেলপার প্রিভিউতে কিছু টুলস ছিল যার মধ্যে রয়েছে-মেট্রো স্টাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্য মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এসডিকে, মাইক্রোসফট ভিজ্যয়াল স্টুডিও ১১ এক্সপ্রেস ও মাইক্রোসফট এক্সপ্রেশন ব্লেন্ড ৫। এই প্রিভিউতে সবাই প্রথম দেখতে পায় উইন্ডোজের স্টার্ট মেনুর বদলে আসা স্টার্ট স্ক্রিন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডেভেলপার প্রিভিউয়ের মেয়াদকাল ১১ মার্চ ২০১২ থেকে আরো বাড়িয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ করা হয় যাতে ডেভেলপারদের সুবিধা হয়।
কনজিউমার প্রিভিউ
এ বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এইটের বেটা ভার্সন বিল্ড ৮২৫০ অবমুক্ত করে কনজিউমার প্রিভিউ নামে। উইন্ডোজ ৯৫-এর পর এই প্রথম সরিয়ে ফেলা হয় স্টার্ট বাটন। এ ভার্সনে স্ক্রিনের নিচের দিকে বাম কোনায় মাউস নিয়ে গেলে স্টার্ট স্ক্রিন আসে। নতুন এ পদ্ধতির নাম দেয়া হয়েছে চার্ম। কনজিউমার প্রিভিউ রিলিজের পর এটি ডাউনলোড করা হয়েছে ১ মিলিয়নেরও বেশিবার। উইন্ডোজের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টিভেন সিনোফস্কাইয়ের ভাষ্যমতে, বেটা ভার্সন জনগণের হাতে পৌঁছানোর আগে উইন্ডোজ এইটে প্রায় ১ লাখেরও বেশি বদল করা হয়েছে। ডেভেলপার প্রিভিউয়ের মতো কনজিউমার প্রিভিউয়ের মেয়াদকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
রিলিজ প্রিভিউ
জাপানের এক ডেভেলপার ডে কনফারেন্সে স্টিভেন সিনোফস্কাই ঘোষণা দেন জুনের প্রথমদিকেই অবমুক্ত করা হবে উইন্ডোজ এইটের আরেকটি বেটা ভার্সন বিল্ড ৮৪০০ বা রিলিজ প্রিভিউ। ২৮ মে কিছু চাইনিজ ওয়েবসাইট ও বিটটরেন্টে লিঙ্ক হলো চীনা ভাষার রিলিজ প্রিভিউয়ের ৬৪ বিট ভার্সন। তাই হয়তো জুনের আগেই ৩১ মে মাইক্রোসফট রিলিজ করে দিল নতুন এ বেটা ভার্সন রিলিজ প্রিভিউ। নতুন এ রিলিজে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ১০ ভার্সনে ফ্ল্যাশ প্লাগিনের সাহায্যে মেট্রো স্টাইল যোগ করা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে নতুন কিছু অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্পোর্টস, ট্রাভেল ও নিউজ। আগের ভার্সনগুলোর মতো এটির মেয়াদকালও নির্ধারণ করা হয়েছে একই দিনে।
বিল্ডিং উইন্ডোজ এইট ব্লগ থেকে জানা গেছে, উইন্ডোজ এইটের আরেকটি বেটা ভার্সন বিল্ড ৮৬০০ বা রিলিজ টু ম্যানুফ্যাকচারিং (আরটিএম) ভার্সন জুলাইয়ের শেষের দিকেযায় উইন্ডোজ এক্সপ্লোরারের রিবন স্টাইল সম্পর্কে। এভাবে সময়ে সময়ে আরো জানা যায় পিডিএস রিডার মডার্ন রিডার, উন্নত টাস্ক ম্যানেজার যার নাম মডার্ন টাস্ক ম্যানেজার, ন্যাটিভ আইএসও ফাইল মাউন্টিং এবং মাইক্রোসফটের আপডেটেড আইএমই আইকন ইত্যাদির খবর। দ্বিতীয় বিল্ড ৭৯২৭ বানানোর সময় দ্য পাইরেট বে লিক করে উইন্ডোজ এইটের কিছু স্ক্রিনশট। বিল্ড ৭৯৫৫ বানানোর সময় লিক হয় যে উইন্ডোজ এইটে নতুন ধরনের লগিন সিস্টেম ও প্রটোগন বা আরই ফাইল সিস্টেম নামের নতুন ফাইল বিন্যাস ব্যবস্থা থাকবে। কড়া সিকিউরিটির মধ্যে থাকা সত্ত্বেও বিল্ড ৭৯৭১ বানানোর সময় আবার ফাঁস হয় যে উইন্ডোজ এইটের থিমে বিরাট পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেম বানানোর সময় মাই ডিজিটাল লাইফ নামের ফোরামে ২০১১ সালের জুনের ১৮ তারিখে ফাঁস হয় অনেক খবর, যার মধ্যে রয়েছে- এসএমএস ফিচার, নতুন ভার্চুয়াল কিবোর্ড, নতুন বুটস্ক্রিন, ট্রান্সপারেন্ট থিম, জিও-লোকেশন সার্ভিস, হাইপার-ভি ৩.০, পাওয়ারশেল ৩.০ ইত্যাদি।
উইন্ডোজ এইট প্রিভিউ
উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের প্রতিটি নতুন ভার্সনে কিছু না কিছু নতুন ফিচার থাকে। নতুন ফিচার যদি না-ই থাকে তবে আর নতুন ভার্সন কেউ কিনবে কেন? উইন্ডোজ এইটে কিছু নতুন ফিচার নয়, অনেক নতুন ফিচার যোগ করা হয়েছে। নতুন ফিচারগুলোর নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়তে পারেন। এক্সপি ইউজারদের যদি উইন্ডোজ সেভেন ব্যবহার করতে দেয়া হয় তবে সেটা তার কাছে কুয়ো থেকে পুকুরে এসে পড়ার মতো অবস্থা হবে। আর যদি এক্সপি ব্যবহারকারীকে উইন্ডোজ এইট ব্যবহার করতে দেয়া হয় তবে সে কুয়ো থেকে সমুদ্রে এসে পড়েছে বলে মনে করতে পারেন। মাইক্রোসফট তাদের অরিজিনাল উইন্ডোজ এইট অবমুক্ত করার আগে এ নিয়ে তিনটি প্রিভিউ বাজারে ছাড়লো। এগুলো হচ্ছে-ডেভেলপার প্রিভিউ, কনজিউমার প্রিভিউ ও রিলিজ প্রিভিউ। প্রিভিউ-গুলোতে উইন্ডোজ এইটের নতুন ফিচারগুলো সংযুক্ত করা হয়েছে। নতুন স্টাইল ও অ্যাপ্লিকেশনগুলো ব্যবহারকারীদের মধ্যে কেমন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে তা জানার জন্য এ প্রিভিউগুলো মুক্ত করা হয়েছে। ব্যবহারকারীর মতামত ছাড়াও আরো বিরাট একটি লক্ষ্য নিয়ে এ প্রিভিউগুলো বের করা হয়েছে যা হচ্ছে ডেভেলপারদের উইন্ডোজ এইট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করা। চলুন সংক্ষেপে দেখে নেয়া যাক উইন্ডোজ এইটের প্রিভিউগুলোর কোনটিতে কি ছিলো।
ডেভেলপার প্রিভিউ
উইন্ডোজ এইটের এক ঝলক দেখানোর জন্য ২০১১ সালের ১৩ সেপ্টেম্বরে মাইক্রোসফট তাদের সাইট থেকে উইন্ডোজ এইটের একটি বেটা ভার্সন বিল্ড ৮১০২ ডাউনলোড করার সুযোগ দেয়, যার নাম ছিল ডেভেলপার প্রিভিউ। ডেভেলপার প্রিভিউ অনলাইনে আসার ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি ৫ লাখেরও বেশিবার ডাউনলোড হয়। এই রিলিজের মূল লক্ষ্য ছিল ডেভেলপারদের মেট্রো স্টাইলের অ্যাপ্লিকেশন বানানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করা। ডেভেলপারদের জন্য ডেভেলপার প্রিভিউতে কিছু টুলস ছিল যার মধ্যে রয়েছে-মেট্রো স্টাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্টের জন্য মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এসডিকে, মাইক্রোসফট ভিজ্যয়াল স্টুডিও ১১ এক্সপ্রেস ও মাইক্রোসফট এক্সপ্রেশন ব্লেন্ড ৫। এই প্রিভিউতে সবাই প্রথম দেখতে পায় উইন্ডোজের স্টার্ট মেনুর বদলে আসা স্টার্ট স্ক্রিন। ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডেভেলপার প্রিভিউয়ের মেয়াদকাল ১১ মার্চ ২০১২ থেকে আরো বাড়িয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ করা হয় যাতে ডেভেলপারদের সুবিধা হয়।
কনজিউমার প্রিভিউ
এ বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারিতে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এইটের বেটা ভার্সন বিল্ড ৮২৫০ অবমুক্ত করে কনজিউমার প্রিভিউ নামে। উইন্ডোজ ৯৫-এর পর এই প্রথম সরিয়ে ফেলা হয় স্টার্ট বাটন। এ ভার্সনে স্ক্রিনের নিচের দিকে বাম কোনায় মাউস নিয়ে গেলে স্টার্ট স্ক্রিন আসে। নতুন এ পদ্ধতির নাম দেয়া হয়েছে চার্ম। কনজিউমার প্রিভিউ রিলিজের পর এটি ডাউনলোড করা হয়েছে ১ মিলিয়নেরও বেশিবার। উইন্ডোজের ভাইস প্রেসিডেন্ট স্টিভেন সিনোফস্কাইয়ের ভাষ্যমতে, বেটা ভার্সন জনগণের হাতে পৌঁছানোর আগে উইন্ডোজ এইটে প্রায় ১ লাখেরও বেশি বদল করা হয়েছে। ডেভেলপার প্রিভিউয়ের মতো কনজিউমার প্রিভিউয়ের মেয়াদকাল ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।
রিলিজ প্রিভিউ
জাপানের এক ডেভেলপার ডে কনফারেন্সে স্টিভেন সিনোফস্কাই ঘোষণা দেন জুনের প্রথমদিকেই অবমুক্ত করা হবে উইন্ডোজ এইটের আরেকটি বেটা ভার্সন বিল্ড ৮৪০০ বা রিলিজ প্রিভিউ। ২৮ মে কিছু চাইনিজ ওয়েবসাইট ও বিটটরেন্টে লিঙ্ক হলো চীনা ভাষার রিলিজ প্রিভিউয়ের ৬৪ বিট ভার্সন। তাই হয়তো জুনের আগেই ৩১ মে মাইক্রোসফট রিলিজ করে দিল নতুন এ বেটা ভার্সন রিলিজ প্রিভিউ। নতুন এ রিলিজে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ১০ ভার্সনে ফ্ল্যাশ প্লাগিনের সাহায্যে মেট্রো স্টাইল যোগ করা হয়েছে এবং সেই সঙ্গে নতুন কিছু অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে স্পোর্টস, ট্রাভেল ও নিউজ। আগের ভার্সনগুলোর মতো এটির মেয়াদকালও নির্ধারণ করা হয়েছে একই দিনে।
বিল্ডিং উইন্ডোজ এইট ব্লগ থেকে জানা গেছে, উইন্ডোজ এইটের আরেকটি বেটা ভার্সন বিল্ড ৮৬০০ বা রিলিজ টু ম্যানুফ্যাকচারিং (আরটিএম) ভার্সন জুলাইয়ের শেষের দিকেযাবে।
উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ার : উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ারের ডিভিডি চালানোর ক্ষমতা নতুন উইন্ডোজে দেয়া হয়নি। ডিভিডি প্লেব্ল্যাক পাওয়ার জন্য উইন্ডোজ মিডিয়া সেন্টার নামিয়ে নিতে হবে বা অন্য কোনো ডিভিডি প্লেয়ার সফটওয়্যার ইনস্টল করতে হবে। উইন্ডোজ মিডিয়া প্লেয়ারের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অন্যান্য মিডিয়া প্লেয়ারের ব্যবসায় লাল বাতি জ্বালানো শুরু করেছিল বলে তাদের বাধার সম্মুখে মাইক্রোসফট ডিভিডি প্লেব্যাক বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
স্টার্ট বাটন : উইন্ডোজ এইট থেকে স্টার্ট বাটন অপসারণ করা হয়েছে। বাটন রাখা হয়নি বটে, কিন্তু তার বদলে রাখা হয়েছে চার্মস মেনু। স্ক্রিনের বামে নিচের কোনায় মাউস নিলে সেখান থেকে বের হয়ে আসে চার্মস মেনু।
স্টার্ট মেনু : উইন্ডোজ এইটে যদি কেউ খুব বেশি একটি জিনিস মিস করে তা হবে স্টার্ট মেনু। কারণ উইন্ডোজ এইটে স্টার্ট মেনুর কোনো অস্তিত্ব নেই। স্টার্ট মেনুর পরিবর্তে দেয়া হয়েছে স্টার্ট স্ক্রিন। মেট্রো ইন্টারফেসের এ স্টার্ট স্ক্রিনেই প্রদর্শিত হবে সব প্রোগ্রাম ও অ্যাপ্লিকেশন।
শো ডেস্কটপ বাটন : ডেস্কটপ দেখানোর জন্য স্ক্রিনের ডান দিকের নিচের কোনায় টাস্কবারে যে চিকন লম্বা বাটন রাখা ছিল তা উইন্ডোজ এইটে নেই। কিন্তু স্ক্রিনের ডান কোনার নিচের স্থানে টাস্কবারে টাচ বা মাউস ক্লিক করলে ডেস্কটপে চলে যাবে।
অ্যারো ইউজার ইন্টারফেস : উইন্ডোজ ভিসতা ও সেভেনে ব্যবহার করা অ্যারো ইউজার ইন্টারফেস বাদ দেয়া হয়েছে উইন্ডোজ এইটে।
এছাড়া আরো কিছু টুকটাক জিনিস বাদ দেয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে- উইন্ডোজ ব্রিফকেস, ডেস্কটপ গ্যাজেট প্লাটফর্ম, গেমস, উইন্ডোজ ব্যাকআপ, উইন্ডোজ রিস্টোর, সাউন্ড ইভেন্টস ইত্যাদি।
উইন্ডোজ এইটের নতুন ফিচার
মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ বিভাগের প্রেসিডেন্ট স্টিভ সিনোফস্কাইয়ের মতে, নতুন উইন্ডোজে যোগ করা হয়েছে শতাধিক ফিচার। কিন্তু সব ফিচারের তালিকা এখনো গোপন রেখেছে মাইক্রোসফট। উইন্ডোজ এইট নিয়ে আলোচনা করার জন্য বানানো ব্লগ এবং বিল্ড নামের এক ডেভেলপারস কনফারেন্সে মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ এইট নিয়ে দেয়া বিস্তারিত বর্ণনা থেকে উইন্ডোজ এইটের বেশ কিছু ফিচারের কথা জানা গেছে, যা আগের কোনো উইন্ডোজে ছিল না। এ প্রসঙ্গে স্টিভেন সিনোফস্কি বলেন, 'আমরা উইন্ডোজকে নতুন করে সাজিয়েছি। উইন্ডোজ ৯৫ সংস্করণের পর অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উইন্ডোজ এইটকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।' তিনি আরো জানান, 'অন্যান্য সংস্করণে মাল্টিটাস্কিং সুবিধার কথা বলা হলেও উইন্ডোজ ৮-এ পাওয়া যাবে আসল মাল্টিটাস্কিংয়ের মজা।'
উইন্ডোজ এইটের চমকপ্রদ কিছু ফিচারের মধ্যে রয়েছে-
মেট্রো ইউজার ইন্টারফেস : অ্যাপলের সঙ্গে প্র্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য মাইক্রোসফট উইন্ডোজকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে। অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেমের বিশেষ বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে আনকোরা স্টাইল ও নান্দনিক ফিচার। উইন্ডোজ এইটের মেট্রো স্টাইল অপারেটিং সিস্টেমের জগতে নতুন এক দিকের সূচনা করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। মেট্রো স্টাইল দেখা যেত মোবাইল ডিভাইসগুলোতে। সেই স্টাইলকে উইন্ডোজ নিয়ে এসেছে ডেস্কটপের পর্দায়। ডেস্কটপে মেট্রো স্টাইলের আগমনে অনেকে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ট্যাবলেট পিসি বা টাচস্ক্রিন ডিভাইসের জন্য এ মেট্রো ইউজার ইন্টারফেস মানানসই, কিন্তু যারা মাউস ও কিবোর্ড ব্যবহারে অভ্যস্ত তাদের কাছে এ স্টাইল বিরক্তির কারণ হিসেবে দেখা দেবে। মেট্রো স্টাইলের পাশাপাশি আগের মতো ডেস্কটপ থেকেও কাজ করা যাবে। এমনও হতে পারে উইন্ডোজ এইটের ফাইনাল রিলিজে ডেস্কটপ পিসির জন্য মেট্রো ইউজার ইন্টারফেসের কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে। যারা উইন্ডোজ সেভেনে উইন্ডোজ মিডিয়া সেন্টার ব্যবহার করেছেন তারা খুব সহজেই মেট্রো ইউজার ইন্টারফেসের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন। ব্যাপারটি অনেকটা স্মার্ট ফোনের স্ক্রিনে টাইল আকারে রাখা আপ্লিকেশনের তালিকার মতো।
স্কাই ড্রাইভ : ক্লাউড কমপিউটিং নিয়ে যেখানে মাতামাতি চলছে সেখানে মাইক্রোসফটের নতুন উইন্ডোজে ক্লাউড সুবিধা অনুপস্থিত থাকার প্রশ্নই আসে না। ক্লাউড কমপিউটিংয়ের সুবিধা দেয়ার জন্য উইন্ডোজ এইটে রাখা হয়েছে স্কাই ড্রাইভ নামের অপশন। এ ড্রাইভের সাহায্যে অনলাইনে ফাইলের ব্যাকআপ রাখা এবং ফাইল শেয়ারের সুবিধা পাওয়া যাবে।
ভার্চুয়াল টাচ কিবোর্ড : উইন্ডোজ এইটে থাকছে দু'ধরনের ভার্চুয়াল কিবোর্ড যা টাচ সেনসিটিভ। একটি হচ্ছে বড় আকারের ফুল সাইট কিবোর্ড যা স্ক্রিনের নিচজুড়ে থাকবে। আরেকটি হচ্ছে দু'ভাগে ভাগ করা কিবোর্ড। এতে স্ক্রিনের ডানে ও বামে ছোট আকারের দুটি কিবোর্ড থাকবে এবং একে প্রয়োজনমতো ছোট বা বড় করে নেয়া যাবে। মোবাইলে মেসেজ টাইপের সময় থাকা টিনাইট ডিকশনারি বা ওয়ার্ড সাজেশনের মতো করে শব্দচয়ন করার সুবিধা দেবে এ প্রোগ্রাম। বেশ কয়েক ভাষায় কিবোর্ড যুক্ত করা হয়েছে, যা ইচ্ছা করলে বদলে নেয়া যাবে টাইপ করার আগে।
নতুন টাস্ক ম্যানেজার : উইন্ডোজ টাস্ক ম্যানেজারের ইন্টারফেসে বেশ ভালো পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রসেসর, র ্যাম ইত্যাদি কতটুকু ব্যবহার হচ্ছে তা দেখার পাশাপাশি ইন্টারনেট স্পিড, ব্লুটুথ ডিভাইস কানেকশনের অবস্থা, ওয়াইফাই কানেকশনের গতি ইত্যাদি দেখা যাবে। চালুরত অ্যাপ্লিকেশন, ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা প্রসেস এবং অন্যান্য উইন্ডোজ অ্যাপ্লিকেশনের পারফরম্যান্স আলাদাভাবে দেখা যাবে। অ্যাপ্লিকেশনের হিস্টোরি দেখার ব্যবস্থা, স্টার্টআপ প্রোগ্রামগুলো হ্যান্ডেল করার ব্যবস্থা, ইউজার ও সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট করা ইত্যাদি অনেক সুবিধা পাওয়া যাবে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, অ্যাপ্লিকেশনগুলোর পারফরম্যান্স আলাদা আলাদা গ্রাফের মাধ্যমে দেখা যাবে, যা বেশ চমৎকার এক সংযোজন।
অ্যাপ্লিকেশন স্টোর : অ্যাপল তাদের বানানো অ্যাপস স্টোর নিয়ে বেশ ভালোই এগিয়ে গেছে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন মার্কেটপ্লেসগুলোর মধ্যে। তাই এ রাজ্যে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করার লক্ষ্যে অ্যাপস স্টোর নামটির কপিরাইট পাওয়ার জন্য কোর্টে আপিল করেছে।কিন্তু এখনো তার কোনো ফলাফল না আসায় মাইক্রোসফট সুযোগ নিতে দেরি করেছে। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এইটের জন্য বানিয়েছে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন স্টোর, যার নাম দেয়া হয়েছে উইন্ডোজ স্টোর। এখানে মেট্রো ইন্টারফেসের সঙ্গে সামঞ্জ্যপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনের পাশাপাশি আরো অনেক অ্যাপ্লিকেশন পাওয়া যাবে। এর মধ্যে কিছু থাকবে বিনামূল্যে আবার কিছুর জন্য গুনতে হবে অর্থ। উইন্ডোজ অ্যাপস ডেভেলপাররা তাদের বানানো অ্যাপ্লিকেশনগুলো এখানে বিক্রি করতে পারবে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, অ্যাপল অ্যাপ্লিকেশন, ফেসবুক অ্যাপ্লিকেশন ইত্যাদি নিয়ে অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপাররা বেশ ভালোই প্রতিযোগিতা করছিলেন। উইন্ডোজ স্টোরের আগমনের ফলে ডেভেলপারদের প্রতিযোগিতার জন্য আরেকটি ক্ষেত্র তৈরি হলো। ফাস্ট বুটআপ : অপারেটিং সিস্টেমের উপরেই অনেকাংশে নির্ভর করে কম্পিউটার কতটা দ্রুত বুটআপ বা চালু হয়ে কাজ করার উপযোগী হয়। আর বর্তমানে স্পিডের যুগে সবকিছুতেই দ্রুতগতি না থাকলে ব্যবহারকারীদের যেন চলেই না। তাই তো বহুদিন ধরেই উইন্ডোজের বুটআপ সময় দীর্ঘ হওয়ার কারণে মাইক্রোসফটকে শুনতে হয়েছে নানা সমালোচনা। এবার বোধহয় সমালোচনার পালা শেষ হতে চলল। কেননা উইন্ডোজ ৮ নামের সঙ্গে মিল রেখে ৮ সেকেন্ডেই বুট হবে। সুইচ চাপার পর দম নিয়ে ১ থেকে ৮ গুনলেই চালু হয়ে যাবে আপনার ডিভাইস। অবশ্য এত তাড়াতাড়ি যে বুট হচ্ছে সেটা আসলে কোল্ড বুট নয় বরং ওয়ার্ম বুট। এর অর্থ হচ্ছে, ওএসের অনেক অংশই হার্ডডিস্কে কপি করা থাকবে, প্রতিবার চালু করলে আবারো প্রথম থেকে প্রস্তুত হবে না, অনেকটা হাইবারনেট করার মতো। এতে শক্তির কোনো অপচয় কম হবে এবং সেই সঙ্গে উইন্ডোজ চালুও হবে দ্রুত। নতুন ফাইল সিস্টেম : স্টিভেন সিনোফস্কি বিল্ডিং উইন্ডোজ এইট ব্লগে জানান, উইন্ডোজ এইটের নতুন ফাইল সিস্টেম রেজিলিয়েন্ট ফাইল সিস্টেম বা রিএফএস সম্পর্কে। তিনি এটিকে সবার সঙ্গে পরিচয় করে দিয়েছেন 'আগামী প্রজন্মের ফাইল সিস্টেম' হিসেবে। এই ফাইল সিস্টেমটি তৈরি করা হয়েছে এনটিএফএসের ওপর ভিত্তি করে। এনটিএফএসের এপিআই/সিমেন্টিক্স ইঞ্জিন পুনঃব্যবহার করায় রিএফএস এনটিএফএসের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে পারবে বলে আশা করা যাচ্ছে। বিদ্যমান সিমেন্টিক্স ইঞ্জিনের অধীনে নতুন এই ফাইলের সিস্টেম ল্যাটেন্ট (সুপ্ত) ডিস্ক এরর থেকে সুরক্ষা, ডাটা করাপশনকে প্রতিহত, মেটাডাটা ইন্টিগ্রেটি সংরক্ষণ, বৃহৎ আকারের ফাইল এবং ডিরেক্টরি তৈরি করা সম্ভব হবে। সংক্ষেপে বলা যায়, নতুন এ ফাইল সিস্টেমের কল্যাণে আরো ভালো স্টোরেজ সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব হবে। ফেস রিকগনিশন : যেসব ডিভাইসে সামনের দিকে ক্যামেরা থাকবে সেগুলোর সাহায্যে ফেস রিকগনিশন সিস্টেমে পাসওয়ার্ড দেয়া যাবে। এ কাজ উইন্ডোজ সেভেনেও করা যায় থার্ড পার্টি সফটওয়্যারের মাধ্যমে। ফেস রিকগনিশন পাসওয়ার্ডের বেলায় কিছু সমস্যা থাকে। যেমন স্বল্প আলোতে ব্যবহারকারীর চেহারা না চিনতে পারা, একই রকমের রেশিওসহ চেহারা পেলে আনলক হয়ে যাওয়া (যমজ ভাইদের ক্ষেত্রে এটি বেশি) এবং ক্যামেরার লেন্স দুর্বল হলেও বেশ সমস্যার সৃষ্টি হয়। পিকচার পাসওয়ার্ড : টাচ স্ক্রিনের ডিভাইসের ক্ষেত্রে পিকচার পাসওয়ার্ড দেয়া যাবে। পিকচারের ওপরে টাচ অ্যাক্টভিটির মাধ্যমে পাওয়ার্ড দেয়া যাবে। ব্যবহারকারীরা ডেস্কটপে তাদের পছন্দ অনুযায়ী ছবি দিয়ে তার ওপর আঙ্গুলের সাহায্যে কয়েক ধরনের ইঙ্গিতের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড দিতে পারবেন। পিকচার পাসওয়ার্ডের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের কমপক্ষে তিন ধরনের ইঙ্গিত নির্বাচন করতে হবে। পাসওয়ার্ড দেয়ার জন্য গোল চিহ্ন আঁকা, ট্যাপ করা এবং ড্রাগ করা ইত্যাদি পদ্ধতি বেছে নিতে পারবেন। যখন কোনো ব্যবহারকারী উইন্ডোজ ৮ সংবলিত মেশিনে পিকচার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করবে, তাদেরকে এই চিত্রগুলোকে নকল করতে হবে নির্দিষ্ট স্থান, ক্রম এবং গতিপথ অনুসরণ করে। ফলে বুঝতেই পারছেন পাসওয়ার্ড চুরি করা এখন কতটা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যদিও মাইক্রোসফট জানিয়েছে ব্যবহারকারীরা স্থানের ব্যাপারে শতভাগ সঠিক না হলেও চলবে, কারণ এই ছবিগুলোকে তারা গ্রিড হিসেবে ভাগ করে ফেলবে এবং এই তিনটি ইঙ্গিতকে যখন নকল করা হবে তখন এর যোগফলের সঙ্গে সংরক্ষিত ফলকে প্রতিবার লগইন করার সময় মেলানো হবে অ্যালগরিদমের সাহায্য নিয়ে। ব্যবহারকারীর যোগফল যদি ৯০ ভাগের ওপরে হয় তাহলেই সে সিস্টেমে প্রবেশাধিকার পাবে। এর মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা বেড়েছে তার ধারণা দিতে গিয়ে মাইক্রোসফট বলেছে, ছয় অক্ষরবিশিষ্ট কোনো পাসওয়ার্ড যেখানে একটি বড় অক্ষর এবং একটা সংখ্যা ব্যবহার করা হয়েছে, সেরকম একটা পাসওয়ার্ডে রয়েছে ৭ বিলিয়ন কম্বিনেশন। কিন্তু একজন ব্যবহারকারী যদি একটি পিকচার পাসওয়ার্ড তৈরি করে শুধু টোকা (ট্যাপ) ব্যবহারের মাধ্যমে ছয়টি ইঙ্গিত তৈরি করে তাহলে এই কম্বিনেশন বেড়ে হয় ১.৩ ট্রিলিয়ন। উইন্ডোজের প্রকৌশলীরা পিকচার পাসওয়ার্ড নিয়ে কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং তারা আশা করছে উইন্ডোজ ৮-এর ফাইনাল সংস্করণ তৈরির সময়ের মধ্যেই কাজটি তারা শেষ করতে পারবে। লকস্ক্রিনে নোটিফিকেশন : কাজ না করার সময় আমাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো কম্পিউটার লক করে রাখি। কিন্তু প্রায়ই আবার বারবার লক খুলে দেখি ফেসবুকে বা চ্যাটে কেউ কোনো মেসেজ পাঠাল কি না, অথবা ইনবক্সে কোনো বার্তা এল কি না। বারবার স্ক্রিন অন করে নোটিফিকেশন দেখার ব্যাপারটি সহজ করার লক্ষ্যে উইন্ডোজ ৮-এ স্ক্রিন লকড থাকা অবস্থায়ই যাবতীয় মেসেজ সংক্রান্ত নোটিফিকেশন দেখানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সিস্টেম রিফ্রেশ : রিফ্রেশ করার মতো করে সিস্টেম রিফ্রেশ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে উইন্ডোজ এইটে। এতে করে আনস্টেবল হয়ে যাওয়া উইন্ডোজ, ভারি অ্যাপ্লিকেশন চালানোর ফলে দেখা দেয়া সমস্যা, হ্যাং হয়ে যাওয়া, রিস্টার্ট না নেয়া ইত্যাদি সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে সিস্টেম রিফ্রেশের সাহায্যে। এর সাহায্যে কম্পিউটারকে ঠিক আগের জায়গায় রেখেই উইন্ডোজকে রিফ্রেশ করা যাবে, যাতে করে কাজের গতি আবার ফিরে পাওয়া যায়। শেয়ার চার্ম : মাইক্রোসফট উইন্ডোজ এইটের বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ইন্টারঅ্যাকটিভিটি। আর তাই শেয়ার চার্ম নামের নতুন এক সাইডবার যোগ করা হয়েছে যাতে মুহূর্তের মধ্যেই যা কোনো কিছু শেয়ার করা যায়। মেমরি রিসোর্স : উইন্ডোজ এইটের হাবভাব দেখে যাই মনে করে থাকেন, এটি অনেক বেশি রিসোর্স নষ্ট করবে, তবে আপনার ধারণা ভুল। কারণ উইন্ডোজ এইট উইন্ডোজে সেভেনের চেয়েও কম জায়গা নেবের্ যামে। যেখানে উইন্ডোজ সেভেন স্টার্টআপে ৪০৪ মেগাবাইটর্ যাম খরচ করে, সেখানে উইন্ডোজ এইট নেবে মাত্র ২৮১ মেগাবাইটর্ যাম। আর এটি মাত্র ডেভেলপার বেটা সংস্করণে রয়েছে। অর্থাৎ আরও উন্নতি সাধিত হবে যাতে করের্ যাম তুলনামূলকভাবে আরো কম প্রয়োজন হয়। পোর্টেবিলিটি : ইউএসবি পোর্ট থেকে সরাসরি উইন্ডোজ চালানোর সুবিধা রাখা হয়েছে, যার নাম দেয়া হয়েছে উইন্ডোজ টু গো। এটি ইউএসবি ২.০ ও ইউএসবি ৩.০ সাপোর্ট করে। এই পদ্ধতিটি সাধারণত 'লাইভ ইউএসবি' নামে পরিচিত। মজার বিষয় হলো উইন্ডোজ চালানো অবস্থায় ইউএসবি থেকে ড্রাইভ খুলে ফেললে উইন্ডোজ ফ্রিজ হয়ে যাবে ঠিকই, তবে যদি ১ মিনিট বা ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে কানেক্ট করা হয়, তবে উইন্ডোজ আগের মতো বহাল তবিয়তে চলতে থাকবে। উন্নত উইন্ডোজ ডিফেন্ডার : উইন্ডোজ ভিসতায় প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল উইন্ডোজ ডিফেন্ডারের। উইন্ডোজ এইটে থাকছে তার আরো উন্নত রূপ। উইন্ডোজ ডিফেন্ডার নামের অ্যান্টি-ম্যালওয়্যার প্রোগ্রামটি ওয়ার্ম, ভাইরাস, ট্রোজান, রুটকিটসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়ার পাশাপাশি ফাইল ফিল্টার সিস্টেমের মাধ্যমে এটি রিয়েলটাইম ম্যালওয়ার ডিটেক্টশন সুবিধা দেবে।     ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার :     উইন্ডোজ ৮-এ থাকছে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ১০। এখন যেটি ডাউনলোড করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে সেটি পুরোপুরি ডেভেলপ করা হয়নি। ফাইনাল রিলিজের সঙ্গে থাকা ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে প্লাগ-ইনস ও এক্সটেনশন যোগ করার সুবিধা থাকবে, যেমন-ফ্ল্যাশ, সিলভারলাইট, মেট্রো স্টাইল ইন্টারফেস, টাচ ইনপুট ইত্যাদি। এতে নতুন করে আরো কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। মাল্টিটাস্কিং : একসঙ্গে একের অধিক অ্যাপ্লিকেশন চালনা এবং একই ডেস্কটপে তাদের নিয়ে নড়াচড়া করা যাবে। কোনো অ্যাপ্লিকেশন ব্যাকগ্রাউন্ডে নিতে চাইলে তাও রাখা যাবে এবং প্রয়োজনে তা আবার ফিরিয়ে আনা যাবে যে কোনো সময়। একসঙ্গে অনেক অ্যাপ্লিকেশন রান করলে তা টাস্কবারে শো করবে না। কারণ রানিং অ্যাপ্লিকেশনগুলোর জন্য আলাদা আরেকটি মেনু রাখা হয়েছে, যা স্ক্রিনের বাম পাশে মাউস নিয়ে এলে দেখা যাবে। উইন্ডোজ এইট কন্ট্রোল প্যানেল : টাস্ক ম্যানেজারের মতো উইন্ডোজ এইটে কন্ট্রোল প্যানেলে আনা হয়েছে নতুন রূপ। নতুন কিছু অপশনও যোগ করা হয়েছে এতে। যার মধ্যে রয়েছে পারসোনালাইজ, ইউজারস, ওয়্যারলেস, নোটিফিকেশন, জেনারেল, প্রাইভেসি, সার্চ ও শেয়ার। উন্নত কপি ব্যবস্থা : কপি করার ব্যাপারে আনা হয়েছে বেশ পরিবর্তন। একসঙ্গে অনেক ফাইল কপি এবং সেগুলো পজ বা রিজিউম করার সুবিধা পাওয়ার জন্য টেরা কপি বা অন্যান্য কপি করার প্রোগ্রাম ইনস্টল করতে হতো, কিন্তু এখন থেকে তা আর করা লাগবে না। উইন্ডোজের নিজস্ব কপি সিস্টেমে প্রতিটি কপি কমান্ডকে আলাদা আলাদা বক্সে না নিয়ে মজিলা ফায়ারফক্সের ডাউনলোড অপশনের মতো সব একই উইন্ডো বা বক্সে নিয়ে আসবে এবং সেগুলো পজ ও রিজিউম করার সুবিধা পাওয়া যাবে। সিঙ্গেল কপির সময় গ্রাফের মাধ্যমে কপি করার স্পিড ও পারফরম্যান্স দেখানো হবে। ন্যাটিভ ইউএসবি ৩.০ সাপোর্ট : উইন্ডোজ সেভেনে ইউএসবি ৩.০ সাপোর্ট পাওয়ার জন্য সফটওয়্যার ব্যবহার করতে হতো, কিন্তু উইন্ডোজ এইট ইউএসবি ৩.০ সাপোর্ট করবে আদালা কোনো কিছু ইনস্টল করা ছাড়া। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ২০১৫ সাল নাগাদ ইউএসবি ৩.০ ডিভাইসের ব্যবহার ২ বিলিয়নেরও ওপরে হবে। মাল্টিপল মনিটর : আগের উইন্ডোজে একেক অধিক মনিটর নিয়ে কাজ করার সময় বিশেষ কিছু সফটওয়্যার ইনস্টল করে ডেস্কটপগুলো কট্রোল করার সুবিধা বাড়ানো যেত, কিন্তু নতুন উইন্ডোজে মাল্টিপল মনিটর হ্যান্ডেল করার সুবিধা দেয়া আছে। ডেভেলপার, ডিজাইনার, গেমার সবার জন্য এ অপশনটি বেশ কাজে দেবে। মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট ইন্টিগ্রেশন : মাইক্রোসফটের সাইটে আরেকটি অ্যাকাউন্ট খুলে সে অ্যাকাউন্টের আইডি ও পাসওয়ার্ডে কিছু অ্যাপ্লিকেশন অ্যাক্সেস করার সুযোগ রাখা হবে। যেমন-উইন্ডোজ স্টোরে লগ ইন করার সময় এ পদ্ধতি দেয়া হতে পারে। পারসোনাল ডাটা সংরক্ষণ করার জন্যও এক অ্যাকাউন্ট সাহায্য করবে। ডিস্ক পার্টিশন সাপোর্ট : আগের উইন্ডোজে বিশাল বড় আকারের অর্থাৎ টেরাবাইট আকারের পার্টিশন করার ব্যবস্থা ছিল না, কিন্তু উইন্ডোজ এইটে ২ টেরাবাইট আকারের পার্টিশন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পিডিএফ রিডার : পিডিএফ বা পোর্টেবল ডিজিটাল ফাইল খোলার জন্য এখন আর অ্যাডোবি রিডার বা অন্যান্য পিডিএফ রিডার ইনস্টল করার প্রয়োজন নেই। উইন্ডোজ এইটে থাকা মডার্ন রিডার পিডিএফ রিড করার কাজ করবে। উপরে উল্লিখিত নতুন ফিচারগুলোর বাইরেও আরো অনেক ফিচার যোগ ও পুরনো ফিচারের উন্নতকরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে-ব্যাটারি লাইফ বাড়ানো, নেটওয়ার্ক স্ট্যাটাস দেখানো, সার্টিফাইড অ্যাপ্লিকেশন, স্পটলাইট, পাওয়ারশেল সাপোর্ট, ইন্টিগ্রেটেড লোড ব্যালেন্সিং, প্রি-ইনস্টল, আইডেন্টিটি ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস, উইন্ডোজ পারফরম্যান্স অ্যানালাইজার, ডেস্কটপ অ্যাপস, মাল্টি টাচ, টাইল গ্রুপিং, বিটলকার সেলফ-এনক্রিপ্টিং ড্রাইভ, উন্নত সার্চ ব্যবস্থা, রিচএডিট, উইন্ডোজ লোগো কিট, অ্যাপ্লিকেশন প্যাকেজ, রিলায়েবল রোলব্যাক, ডেভেলপার পোর্টাল, ন্যাটিভ কোড, ফ্যাক্টরি রিসেট, অ্যানিমেশন ইন এইচটিএমএল, রিমোট ল্যাব এক্সচেঞ্জ, উইন্ডোজ রেটিং, উইন্ডোজ রিভিউ, উইন্ডোজ রিপোর্ট, ওয়াই-ফাই হটস্পট অথেন্টিকেশন, ফিগার ইন সিএসএস, অটোম্যাটিক আপডেট, স্টেরিও থ্রিডি ভিডিও ও গেমিং, ইজি ডিভাইস সেটআপ, জিও লোকেশন, অ্যাপ্লিকেশন আপডেট, রেজিস্ট্রি ইমপ্রুভমেন্ট, উইন্ডোজ এসেসমেন্ট কন্ট্রোল, মডার্ন এসডিকে, ফ্লুইড গ্রিড, স্ল্যাশ স্ক্রিন কন্টাক্ট, হিস্টোরি ভল্ট, ক্লাস ড্রাইভার, ফাইল পিকার, প্রজেকশন ইত্যাদি অনেক কিছু। উইন্ডোজ এইটের জন্য পিসি কনফিগারেশন : উইন্ডোজ সেভেন ইনস্টল করার জন্য কিছুটা শক্তিশালী পিসির দরকার। তাই অনেকেই এখনো এক্সপি থেকে সেভেনে আপগ্রেড করেননি তাদের অপারেটিং সিস্টেম। আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে উইন্ডোজ এইট সেভেনের চেয়ে বেশি রিসোর্স দখল করবে এবং অনেক হাই কনফিগারেশনের পিসি রিকমেন্ড করবে। কিন্তু আসলে ব্যাপারটি উল্টো। উইন্ডোজ সেভেনের চেয়ে কম রিসোর্স দখল করবে উইন্ডোজ এইট। এখন দেখা যাক উইন্ডোজ এইটের হার্ডওয়্যার রিকোয়ারমেন্ট কেমন। ৩২ বিট অপারেটিং সিস্টেমের জন্য প্রসেসর : ১ গিগাহার্টজ। মেমরি : ১ গিগাবাইট। গ্রাফিক্স কার্ড : ডিরেক্টএক্স ৯ সাপোর্টেড। ডিস্ক স্পেস : ১৬ গিগাবাইট। ৬৪ বিট অপারেটিং সিস্টেমের জন্য প্রসেসর : ১ গিগাহার্টজ। মেমরি : ২ গিগাবাইট। গ্রাফিক্স কার্ড : ডিরেক্টএক্স ৯ সাপোর্টেড। ডিস্ক স্পেস : ২০ গিগাবাইট। ট্যাবলেট পিসির জন্য ০১. ডিরেক্টএক্স ১০ সাপোর্টেড গ্রাফিক্স কার্ড। ০২. ১ গিগাহার্টজের প্রসেসর। ০৩. ১০ গিগাবাইট ফাঁকা স্থান। ০৪. কমপক্ষে পাঁচটি বাটন। ০৫. ৭২০পি ক্যামেরা। ০৬. ১-৩০০০০ লাক্স ক্যাপাবল অ্যাম্বিয়েন্ট লাইট সেন্সর। ০৭. তিন অ্যাক্সেসের অ্যাক্সেলারোমিটার। ০৮. ১৩৬৬ বাই ৭৬৮ স্ক্রিনের ডিসপ্লে। ০৯. স্পিকার, মাইক্রোফোন, ম্যাগনেটোমিটার ও গাইরোস্কোপ থাকতে হবে। ১০. ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক ও ব্লুটুথ ৪.০। ১১. ইউএসবি ২.০ পোর্ট থাকতে হবে। মাইক্রোসফট নিজেই উইন্ডোজ এইটভিত্তিক ট্যাবলেট পিসি বাজারে আনতে যাচ্ছে। কারণ তারা এমন এক প্রযুক্তি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে হার্ডওয়্যারের সঙ্গে সফটওয়্যারের বন্ধন তৈরি হয়। এর ফলে উইন্ডোজ সাপোর্টেড ট্যাবলেটে অন্য কোনো অপারেটিং সিস্টেম ইনস্টল করা সম্ভব হবে না। নতুন এ টেকনোলজিকে তারা নামকরণ করেছে সিকিউর বুট নামে।
উপসংহার : অপারেটিং সিস্টেমের দুনিয়ায় মাইক্রোসফটের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছে অ্যাপল। তাই তাদেরকে মাত দেয়ার জন্য এ বছরের শেষের দিকে উইন্ডোজ এইট রিলিজ দিয়ে বাজার দখল করতে চায় মাইক্রোসফট। বড়দিনের কেনাকাটার আগেই যেনো বাজারে উইন্ডোজ এইট পৌঁছে যায় সে ব্যাপারে মাইক্রোসফট বেশ সচেতন। ডেল, এইচপি, নকিয়া, গেটওয়ে, সনি, আসুস, তোশিবা, লেনোভো, এসার ইত্যাদি ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উইন্ডোজ এইট তাদের ডিভাইসের সঙ্গে কতটুকু মানানসই তার ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে। এর মধ্যে লেনোভো ঘোষণা দিয়েছে তারাই প্রথম উইন্ডোজ এইটভিত্তিক ট্যাবলেট পিসি বাজারে আনবে। ২০১৩ সালে ট্যাবলেট পিসির জগতে অ্যাপল ও অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমকে টেক্কা দেয়ার জন্য মাইক্রোসফট বেশ আটঘাট বেঁধেই নেমেছে। দেখা যাক উইন্ডোজ এইটের ফাইনাল রিলিজে আমাদের জন্য আর কী কী নতুন চমক নিয়ে আসতে যাচ্ছে মাইক্রোসফট।
লেখক : সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞ

সর্বশেষ আপডেট ( বুধবার, 18 জুলাই 2012 05:17 )  
You are here: Home প্রচ্ছদ প্রতিবেদন

ব্যানার স্লাইডার